রেজা করিম

ঢাকা: আলোচিত রিসোর্ট-কাণ্ডের জেরে সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মর্যাদা খুইয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। অপবাদ, কলঙ্ক, মামলার বোঝা নিয়ে হলেন গ্রেপ্তারও। তার আগে একরকম নির্বাসনেই ছিলেন তিনি। বিভিন্ন মাধ্যমে স্বীকার করেছেন নিজের ভুল। তবে তার ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁর সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে। মামুনুলের কারণেই আজ ডুবতে বসেছে সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত সংগঠনটি।
মোদি বিরোধী আন্দোলনে ভরাডুবির পর মাঠ ছেড়ে কেবল নিজেদের কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করতে বসেছিল হেফাজত। ঠিক তখনই মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে সংগঠনটিকে। মামুনুলের বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকবার আলোচনায় বসেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিজের মত করে সমাধান করতে বলা হয়েছে সেই সব বৈঠক থেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে হেফাজতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে। মামুনুলের ঘনিষ্ঠ হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ক্যান যে মামুনুল ভাই এমনটা করলো, বুঝিনা। তারে নেতাকর্মীরা অনেক পছন্দ করে। তার কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করে। কিন্তু রিসোর্টের ওই ঘটনার পরে সব অর্জন এক্কেবারে মাটি হইয়া গেছে। নিজে তো (মামুনুল হক) ডুবছেই। সংগঠনরেও ডুবাইছে'।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের বিরোধিতায় পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করে হেফাজত। ২৭ ও ২৮ মার্চ দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও হরতাল পালন করে সংগঠনটি। তিন দিনের কর্মসূচি পালনকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভরত হেফাজত কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এসব সংঘর্ষে হেফাজতের ১৮ জন কর্মী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।এমন একটি অবস্থায় ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। সেই ঘটনা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ঘটনাটির সূত্র ধরে মামুনুলের অজানা তথ্যসহ খুঁটিনাটি আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। চায়ের আড্ডা থেকে বিষয়টি গড়ায় সংসদেও।
নারায়ণগঞ্জ রিসোর্টে মামুনুল কাণ্ডের পরে হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়, তারা কি দেওবন্দে যায় না শিক্ষা গ্রহণ করতে? তারা যদি এসব ঘটনা ঘটায়, তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেওবন্দে যাবে কিভাবে- সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে। আমরা তো কওমি মাদ্রাসায় সনদ দিচ্ছি। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পায়, তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। তারপরেও কেন তারা এ তাণ্ডব ঘটাল?
মামুনুল ও হেফাজতের সমালোচনা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, মামুনুল হক ইসলামের কথা বলে নোংরামি করেছেন। হেফাজত ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ। হেফাজত নেতাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
নিজের সংগঠন ও পরিবার থেকেও একের পর এক চাপে পড়েছেন মামুনুল। তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত জাহান ঝর্ণার আগের পক্ষের বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে তার অপকর্মের নানা চিত্র তুলে ধরেন। মামুনুল সম্পর্কে অজানা আরও অনেক কথাও দেশবাসীকে জানান ঝর্ণার ছেলে আব্দুর রহমান সাকিব। প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বা ও সন্তানদের সাথেও এ নিয়ে মনোমালিন্য চলছে মামুনুলের। ঝর্নাও বিশ্বাস করছেন না মামুনুলকে।
এদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকেও মামুনুলকে চাপে রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, মামুনুলের কার্যকলাপের কারণে আজ হেফাজতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তার কারণেই সংগঠন আজ ডুবতে বসেছে। তার বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বেশিরভাগের কাছেই তিনি হিরো থেকে জিরো হয়ে গেছেন। খোদ দলের আমীরও তাকে আর আগের মত পছন্দ করছেন না।
অবস্থা বেগতিক দেখে একরকম বাধ্য হয়েই পর্দার আড়ালেই ছিলেন মামুনুল। বর্তমানে মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। মাঝে মাঝে ফেসবুকে এসে লাইভও করেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। রোববার তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, মোদি বিরোধী আন্দোলন সফল হবে না জেনেও নৈতিক জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজত। কথা ছিল শান্তিপূর্ণভাবে এ প্রতিবাদ করা হবে। তবে নানা কারণে হেফাজতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারীদলের সন্ত্রাসী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন শতাধিক। মামলা হয় হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। ৩ এপ্রিল মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের ঘটনা হেফাজতকে একেবারে খাঁদের কিনারে দাঁড় করিয়েছে। এ ঘটনায় মামুনুল হক যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার চেয়ে সংগঠনের সর্বনাশ বেশি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা সংগঠনের বর্তমান সঙ্কটের জন্য মামুনুলের বেপরোয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে দায়ী করেছেন। তবে এর দায় হেফাজতে ইসলামের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম এবং নায়েবে আমির আহমদ আব্দুল কাদেরের ফোনালাপেও এমনটাই ধরা পড়েছে। ফোনালাপে মামুনুলের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে মূলত হেফাজতের উদ্দেশে একজন আরেকজনকে বলেন, ‘মানুষ তো সুযোগ পেয়ে গেল। সত্য কি মিথ্যা, সেটা পরের কথা। মানুষ তো এখন বলবে- যান, আপনারা মাওলানারা কেমন, তা বোঝা হয়ে গেছে…। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনারা তাকে (মামুনুল হক) এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন তিনি রাজপুত্র।'
এছাড়া ফজলুল করিম কাসেমী ও সংগঠনের সহকারী প্রচার সম্পাদক ফয়সল আহমেদের ফোনালাপেও মামুনুলকে দোষারোপ করা হয়েছে।
দায়িত্বশীলদের অনেকেই বলছেন, মামুনুলের বক্তব্য সংঘর্ষ সৃষ্টিতে উস্কানি যুগিয়েছে। তার কারণে সংগঠন বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, এটা আগে থেকেই ভেবে দেখা উচিত ছিল। যে কারণে মামুনুলের কর্মের মাশুল আজ হেফাজতকে গুনতে হচ্ছে। মামুনুলকে নিয়ে সংগঠন এতটাই বিব্রত যে, তার বিষয়ে কথা বলতেও চাননা নেতারা।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি আতা উল্লাহ আমীন বলেন, মামুনুল সাহেবের বিষয়টি এখন আর সংগঠনে অতটা গুরুত্ব বহন করছে না। এর বাইরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ জেলে রয়েছেন, অনেক মামলা রয়েছে। সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি।’
আরও পড়ুন:
মামুনুল হক গ্রেপ্তার
সোনারগাঁ পৌরসভার কাউন্সিলর গ্রেপ্তার
হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও জালাল সাত দিনের রিমান্ডে
ইসলামাবাদী আরও ২১ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা: আলোচিত রিসোর্ট-কাণ্ডের জেরে সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মর্যাদা খুইয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। অপবাদ, কলঙ্ক, মামলার বোঝা নিয়ে হলেন গ্রেপ্তারও। তার আগে একরকম নির্বাসনেই ছিলেন তিনি। বিভিন্ন মাধ্যমে স্বীকার করেছেন নিজের ভুল। তবে তার ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁর সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে। মামুনুলের কারণেই আজ ডুবতে বসেছে সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত সংগঠনটি।
মোদি বিরোধী আন্দোলনে ভরাডুবির পর মাঠ ছেড়ে কেবল নিজেদের কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করতে বসেছিল হেফাজত। ঠিক তখনই মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে সংগঠনটিকে। মামুনুলের বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকবার আলোচনায় বসেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিজের মত করে সমাধান করতে বলা হয়েছে সেই সব বৈঠক থেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে হেফাজতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে। মামুনুলের ঘনিষ্ঠ হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ক্যান যে মামুনুল ভাই এমনটা করলো, বুঝিনা। তারে নেতাকর্মীরা অনেক পছন্দ করে। তার কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করে। কিন্তু রিসোর্টের ওই ঘটনার পরে সব অর্জন এক্কেবারে মাটি হইয়া গেছে। নিজে তো (মামুনুল হক) ডুবছেই। সংগঠনরেও ডুবাইছে'।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের বিরোধিতায় পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করে হেফাজত। ২৭ ও ২৮ মার্চ দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও হরতাল পালন করে সংগঠনটি। তিন দিনের কর্মসূচি পালনকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভরত হেফাজত কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এসব সংঘর্ষে হেফাজতের ১৮ জন কর্মী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।এমন একটি অবস্থায় ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। সেই ঘটনা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ঘটনাটির সূত্র ধরে মামুনুলের অজানা তথ্যসহ খুঁটিনাটি আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। চায়ের আড্ডা থেকে বিষয়টি গড়ায় সংসদেও।
নারায়ণগঞ্জ রিসোর্টে মামুনুল কাণ্ডের পরে হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়, তারা কি দেওবন্দে যায় না শিক্ষা গ্রহণ করতে? তারা যদি এসব ঘটনা ঘটায়, তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেওবন্দে যাবে কিভাবে- সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে। আমরা তো কওমি মাদ্রাসায় সনদ দিচ্ছি। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পায়, তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। তারপরেও কেন তারা এ তাণ্ডব ঘটাল?
মামুনুল ও হেফাজতের সমালোচনা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, মামুনুল হক ইসলামের কথা বলে নোংরামি করেছেন। হেফাজত ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ। হেফাজত নেতাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
নিজের সংগঠন ও পরিবার থেকেও একের পর এক চাপে পড়েছেন মামুনুল। তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত জাহান ঝর্ণার আগের পক্ষের বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে তার অপকর্মের নানা চিত্র তুলে ধরেন। মামুনুল সম্পর্কে অজানা আরও অনেক কথাও দেশবাসীকে জানান ঝর্ণার ছেলে আব্দুর রহমান সাকিব। প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বা ও সন্তানদের সাথেও এ নিয়ে মনোমালিন্য চলছে মামুনুলের। ঝর্নাও বিশ্বাস করছেন না মামুনুলকে।
এদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকেও মামুনুলকে চাপে রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, মামুনুলের কার্যকলাপের কারণে আজ হেফাজতের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তার কারণেই সংগঠন আজ ডুবতে বসেছে। তার বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বেশিরভাগের কাছেই তিনি হিরো থেকে জিরো হয়ে গেছেন। খোদ দলের আমীরও তাকে আর আগের মত পছন্দ করছেন না।
অবস্থা বেগতিক দেখে একরকম বাধ্য হয়েই পর্দার আড়ালেই ছিলেন মামুনুল। বর্তমানে মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। মাঝে মাঝে ফেসবুকে এসে লাইভও করেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। রোববার তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, মোদি বিরোধী আন্দোলন সফল হবে না জেনেও নৈতিক জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজত। কথা ছিল শান্তিপূর্ণভাবে এ প্রতিবাদ করা হবে। তবে নানা কারণে হেফাজতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারীদলের সন্ত্রাসী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন শতাধিক। মামলা হয় হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। ৩ এপ্রিল মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের ঘটনা হেফাজতকে একেবারে খাঁদের কিনারে দাঁড় করিয়েছে। এ ঘটনায় মামুনুল হক যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার চেয়ে সংগঠনের সর্বনাশ বেশি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা সংগঠনের বর্তমান সঙ্কটের জন্য মামুনুলের বেপরোয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে দায়ী করেছেন। তবে এর দায় হেফাজতে ইসলামের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম এবং নায়েবে আমির আহমদ আব্দুল কাদেরের ফোনালাপেও এমনটাই ধরা পড়েছে। ফোনালাপে মামুনুলের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে মূলত হেফাজতের উদ্দেশে একজন আরেকজনকে বলেন, ‘মানুষ তো সুযোগ পেয়ে গেল। সত্য কি মিথ্যা, সেটা পরের কথা। মানুষ তো এখন বলবে- যান, আপনারা মাওলানারা কেমন, তা বোঝা হয়ে গেছে…। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনারা তাকে (মামুনুল হক) এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন তিনি রাজপুত্র।'
এছাড়া ফজলুল করিম কাসেমী ও সংগঠনের সহকারী প্রচার সম্পাদক ফয়সল আহমেদের ফোনালাপেও মামুনুলকে দোষারোপ করা হয়েছে।
দায়িত্বশীলদের অনেকেই বলছেন, মামুনুলের বক্তব্য সংঘর্ষ সৃষ্টিতে উস্কানি যুগিয়েছে। তার কারণে সংগঠন বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, এটা আগে থেকেই ভেবে দেখা উচিত ছিল। যে কারণে মামুনুলের কর্মের মাশুল আজ হেফাজতকে গুনতে হচ্ছে। মামুনুলকে নিয়ে সংগঠন এতটাই বিব্রত যে, তার বিষয়ে কথা বলতেও চাননা নেতারা।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি আতা উল্লাহ আমীন বলেন, মামুনুল সাহেবের বিষয়টি এখন আর সংগঠনে অতটা গুরুত্ব বহন করছে না। এর বাইরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ জেলে রয়েছেন, অনেক মামলা রয়েছে। সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি।’
আরও পড়ুন:
মামুনুল হক গ্রেপ্তার
সোনারগাঁ পৌরসভার কাউন্সিলর গ্রেপ্তার
হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও জালাল সাত দিনের রিমান্ডে
ইসলামাবাদী আরও ২১ দিনের রিমান্ডে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়। গত শনিবার রাতে জামায়াত নেতা হেজবুল্লাহ এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দুটি করেন।
১ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
২ ঘণ্টা আগে