Ajker Patrika

নওগাঁ শহর: টিসিবির পণ্য পেতে নাভিশ্বাস

  • লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি
  • সকাল ১০টায় শুরুর কথা থাকলেও বেলা দেড়টার পর পণ্য বিক্রি করা হয়
  • বগুড়া থেকে ট্রাক আসতে দুপুর হয়ে যাচ্ছে
­­­নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ শহর: টিসিবির পণ্য পেতে নাভিশ্বাস
নওগাঁয় আনন্দনগর খেলার মাঠে টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড় করেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নওগাঁয় শুরু হয়েছে ট্রাকে করে খোলাবাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। তবে এসব পণ্য বিক্রিতে সময়সূচি ঠিক না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দেরি করে টিসিবির ট্রাক এলে ভিড়, ঠেলাঠেলি পেরিয়ে পণ্য হাতে নিতে নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ। মাঠে প্রচণ্ড রোদ। খোলা স্থানে দাঁড়াতে না পেরে কেউ কেউ ইট রেখে সিরিয়াল দিয়েছেন। আবার কেউ অপেক্ষা করতে করতে যখন শুনছেন ট্রাক চলে এসেছে, দৌড়ে গিয়ে লাইনে ‘কে আগে, কে পরে’ দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে। নিম্ন আয়ের এই মানুষেরা কেউ এসেছেন সকাল ৬টায়, কেউবা সকাল ৮টায় কিংবা ৯টায়। আবার কেউ কেউ তারও আগে এসে বসে আছেন। রোজা রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত-অধৈর্য হয়ে পড়ছেন মানুষ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন পুলিশ এসে সেখানে অপেক্ষারত লোকজনকে জানায়, টিসিবির ট্রাক আসবে আনন্দনগর খেলার মাঠে। এ খবর পেয়ে সেখানে অপেক্ষায় থাকা দেড় শতাধিক মানুষ হুড়মুড় করে আনন্দনগর স্কুলমাঠ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে খেলার মাঠে ছোটেন। পরে বেলা ১টার দিকে খেলার মাঠে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করা হয়। সেখানে টিসিবির পণ্য বিতরণে বিশৃঙ্খলা চোখে পড়ে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে নারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটতে দেখা যায়।

নওগাঁ শহরের আনন্দনগর এলাকার বাসিন্দা আছিয়া বেওয়া (৭০)। বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। এই শরীরেও লাঠিতে ভর করে এসেছিলেন আনন্দনগর খেলার মাঠে। টিসিবির ওই ট্রাকের পেছনে তখন অন্তত তিন শতাধিক মানুষের ভিড় ছিল। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকবার নারীদের সারি থেকে ছিটকে যান তিনি। ধাক্কাধাক্কিতে সারি থেকে কয়েকবার ছিটকে পড়ে শেষ পর্যন্ত সারির পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আছিয়া বেওয়া বলেন, ‘জোয়ান মহিলারা হামাক ধাক্কা ম্যারে ফেলে দ্যাছে। শ্যাষে বাধ্য হয়ে লাইনের পিছনত দাঁড়াছি। হামি ট্রাকের কাছত য্যাতে য্যাতে জিনিস থাকবে কি না আল্লাই জানে। হামি অসুস্থ মানুষ, তাও কেউ অ্যানা সুযোগ দ্যাছে না।’

লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলেখা বেগম নামের আরেক নারী বলেন, ‘কাজকাম ফ্যালে দিয়ে হামরা সকাল থেকে বসে আছিনু। আর এখন পিছ থ্যাকে আসে এখন অনেকেই সামনে দ্যাঁড়ে গেছে। হামরা তো ওদের মতো ধাক্কাধাক্কি করতে পারমু না।’

প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অনেক কষ্টে পণ্য পান শহরের শাহি মসজিদ এলাকার বাসিন্দা গুলেনুর বেগম। তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে জিনিস বিক্রি শুরু করার কথা। কিন্তু ট্রাকই আসিছে বেলা ১টার পর। বিক্রি শুরু করেছে দেড়টার পর। প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকার পর জিনিস পাইলাম।’

খবির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গতবার রোজায় টিসিবির জিনিস বিক্রির আগে সবার হাতে হাতে সিরিয়াল অনুযায়ী স্লিপ দিয়ে দিত। এবার সেটা করেনি। এ কারণে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। ধাক্কাধাক্কি করে লাইনে যে আগে দাঁড়াতে পারছে, সেই আগে পণ্য পাচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে টিসিবির ডিলার ও মেসার্স অবন্তিকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তারক চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিদিন বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে টিসিবির পণ্য নিয়ে আসতে হয়। বগুড়া থেকে ট্রাক আসতে আসতে দুপুর হয়ে আসছে। ফলে সকাল ১০টা থেকে বিতরণ করার কথা থাকলেও দেরি যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। গতবারের মতো এক সঙ্গে চার-পাঁচটা পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করা গেলে এত চাপ হতো না। মানুষ শান্তিমতো পণ্য কিনতে পারতেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত