Ajker Patrika

শনিবারের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী, ইরানে হামলা যেকোনো সময়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৪৬
শনিবারের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী, ইরানে হামলা যেকোনো সময়
যুক্তরাষ্টের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী। ছবি: আনাদোলু

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী শনিবার থেকেই প্রস্তুত থাকবে। তবে আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছে, যেকোনো পদক্ষেপের সময়সীমা সম্ভবত এই সপ্তাহান্তের পরেও গড়াতে পারে।

সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তিনি হামলার নির্দেশ দেবেন কি না। হোয়াইট হাউস এখনো পরিস্থিতি নিয়ে ঝুঁকি ও রাজনৈতিক এবং সামরিক পরিণতি বিবেচনা করছে। উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা এবং সংযম দেখানোর ফলাফল—দুই দিকই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিবর্তনশীল।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কিছু সেনাসদস্যকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। তাঁদের প্রধানত ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একটি সূত্র বলেছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে সেনা ও সরঞ্জাম স্থানান্তর করা পেন্টাগনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে ইরানে হামলা অবশ্যম্ভাবী। বুধবার বিকেলে সিবিএস নিউজ পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এক মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসরায়েল সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট গতকাল বুধবার ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে ‘অনেক কারণ ও যুক্তি’ রয়েছে। তবে কূটনীতি সব সময়ই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুন মাসে আমরা খুবই সফল একটি অভিযান চালিয়েছিলাম, যা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসা।’

বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন। মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, ফোর্ড রণতরিটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে থাকা অবস্থায়। খামেনির পোস্টে লেখা ছিল, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম। তবে সেই যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা জাহাজটিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে পারে।’

দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি না হলে ইসরায়েল যদি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলা চালায়, তবে তিনি সমর্থন দেবেন। বুধবার ইরান পাইলটদের সতর্ক করে বলেছে রকেট উৎক্ষেপণের কারণে বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এড়িয়ে চলতে।

গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল।

যুদ্ধের আগে ২০১৪ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি জোরদার করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করছিল। এটি অস্ত্রমানের পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। সংস্থাটি আরও বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ, যারা এত উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত