Ajker Patrika

হালুয়াঘাটে রেজিয়া হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামির গ্রেপ্তার দাবি

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
হালুয়াঘাটে রেজিয়া হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামির গ্রেপ্তার দাবি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে রেজিয়া খাতুন হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি রিয়াদ হাসানকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহত রেজিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে রেজিয়া খাতুন (৮২) হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি রিয়াদ হাসানকে (২০) দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহত রেজিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহত রেজিয়া খাতুন শাকুয়াই ইউনিয়নের বাড়িয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শাকুয়াই বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বড় ছেলে দুলালের সঙ্গে তাঁর মা রেজিয়া ও ছোট ভাই মজিবরের জমির ভাগ-বাঁটোয়ারা ও দখল-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ওই জমিতে দুলাল জোরপূর্বক ধানের চারা রোপণ করলে রেজিয়া খাতুন তাতে বাধা দেন। এতে ছেলে দুলালের পরিবারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রেজিয়া খাতুন ধানখেতে গিয়ে দুই ছেলের মধ্যে জমি ভাগ করে দিতে চান। এ সময় আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রেজিয়া খাতুনকে দুলাল (৫২), তাঁর ছেলে রিয়াদ হাসান (২০) ও স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫) মারধর করে ধানখেতের আইলের পাশে ফেলে রাখেন।

মামলার বাদী ও নিহত রেজিয়ার বোন আয়েশা খাতুন জানান, গত সোমবার স্বজনদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, রেজিয়া খাতুনের মরদেহ বাড়িয়াকান্দা এলাকার একটি ধানখেতের আইলের পাশে পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

আয়েশা খাতুনের অভিযোগ, ঘটনার আগে রেজিয়া খাতুনের সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে ধানখেতের আইলের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নিহত রেজিয়ার স্বজনেরা জানান, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। তাঁদের দাবি, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারেন।

জানতে চাইলে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত