Ajker Patrika

এআই ক্যামেরার জাদুতে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

  • উদ্বোধনের দিনে হয়েছিল ৪৪৬টি মামলা
  • এক দিনের ব্যবধানেই কমে নামে ৪২টিতে
  • সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে: পুলিশ
  • পরিস্থিতি নির্দিষ্ট সময় পরপর মূল্যায়ন করা হবে
জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
এআই ক্যামেরার জাদুতে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা চালুর প্রথম দিন গত মঙ্গলবার ৪৪৬টি মামলা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন বুধবার মামলা হয়েছে মাত্র ৪২টি। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানেই মামলা কমে নেমে এসেছে দশভাগের একভাগে। অতিরিক্ত গতি ও উল্টো পথে গাড়ি চালানো—এই দুই কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই মামলাগুলো হয়েছে। এর ভিত্তিতে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরা নিয়ে আশাবাদী হচ্ছেন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করার ফলে চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, মামলা ও জরিমানা এড়াতে চালকেরা এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হচ্ছেন।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য বলছে, গত মঙ্গলবার উদ্বোধনের দিনে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে মোট মামলা হয়েছে ৪৪৬টি। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে মামলা হয়েছে ৪১৭টি। এই অপরাধে কুমিল্লা অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৯৭টি এবং গাজীপুর অঞ্চলে ২০টি মামলা নিবন্ধিত হয়। অন্যদিকে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে ২৯টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুর অঞ্চলে ২৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ৬টি ঘটনা শনাক্ত হয়।

সারা দেশে মোট আটটি অঞ্চলের ভিত্তিতে মহাসড়ক দেখভাল করে হাইওয়ে পুলিশ। এআই প্রযুক্তি যে অঞ্চলে লাগানো হয়েছে, তা গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যন্ত অংশ গাজীপুরের অঞ্চলের মধ্যে এবং দাউদকান্দি থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত কুমিল্লা অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে।

গত বুধবার দ্বিতীয় দিনে শুধু অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ওই দুই অঞ্চলে মামলা হয়েছে মাত্র ৪২টি। আর উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মত অপরাধ কেউ করেনি অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় মামলা হয়নি। এ তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, এআই ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি স্থাপনের কারণে রাতারাতি অনিয়ম করার প্রবণতা কমতে শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা চালুর দ্বিতীয় দিনেই পাল্টাতে শুরু করেছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চিত্র। তবে কর্তৃপক্ষটি জানায়, সার্বিকভাবে মহাসড়কে আইন মেনে চলার প্রবণতা কতটা বাড়ছে ও দুর্ঘটনা কমছে কি না, নির্দিষ্ট সময় পরপর তার মূল্যায়ন করা হবে।

জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আইন মেনে চলার প্রবণতা ও দুর্ঘটনা কমছে কি না, তা নির্দিষ্ট সময় পরপর মূল্যায়ন করা হবে। এরই মধ্যে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। এআই ক্যামেরার উদ্যোগটি সফল হবে বলে আশা করি।’

মুনতাসিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত করে মামলা হওয়ায় এতে মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। মামলা অটোমেটিক হচ্ছে, অটোমেটিক মোবাইলে মেসেজ চলে যাচ্ছে। আপনাকে সেটা পে করতে হচ্ছে। মামলা এড়ানোর কোনো রাস্তা থাকবে না।’

হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটারে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশে ৪৯০টি খুঁটিতে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এগুলো একটি ডেটা সেন্টার ও ৫টি মনিটরিং সেন্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৪২ কোটির টাকার কিছু বেশি।

মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো, থ্রি-হুইলার চলা, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন করার ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করে এআই ক্যামেরা।

২০১৮ সালের সড়ক আইন অনুযায়ী মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। উল্টো পথে গাড়ি চালালে ৩ হাজার ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে ২ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

আব্দুল মান্নান নামের নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা এক বাসযাত্রী জানান, বেপরোয়া গতির কারণে তাদের এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এআই ক্যামেরা লাগানোর ফলে গাড়ির বেপরোয়া গতি বুধবারে কিছুটা কমেছে বলে তার মনে হয়েছে।

মোটরসাইকেলচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এআই ক্যামেরা চালুর কারণে সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছি, যাতে মামলায় না পড়ি।’

বাসমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এআই ক্যামেরার ব্যবহারে সুফল মিলবে বলে আশা করি। হাইওয়েতে যানবাহন চলাচলে গতিসীমা মানাসহ ট্রাফিক আইন মানতে মালিক ও চালকদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে ইতিপূর্বেই সব গাড়িতে সার্কুলার জারি করা হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে।’

কফিল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘মামলা ও জরিমানা এড়াতে চালকেরা এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হবেন। এ ছাড়া গাড়ির ফিটনেস বা লাইসেন্স নবায়নের সময় ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত চিত্র দেখে চালকদের অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সহজ হবে। এটা দেখলে ড্রাইভাররা সতর্ক হবেন। এভাবে আইন লঙ্ঘনের ব্যাপারটা ধীরে ধীরে কমে আসবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত