Ajker Patrika

বিদ্যুৎহীন ৪২ ঘণ্টা, বিপাকে মানুষ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
বিদ্যুৎহীন ৪২ ঘণ্টা, বিপাকে মানুষ
বৈদ্যুতিক মূল লাইনের তারে উপড়ে পড়েছে গাছ। সরানোর কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ৪২ ঘণ্টা পার হলেও সচল করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় কেউ কেউ ভাড়া করা জেনারেটরে মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবস্থা করছেন।

তবে ঝড়ের পর থেকে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইন সচল করতে কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ১২টি ইউনিয়নে গড়ে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ময়মনসিংহ-৩-এর হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মাহমুদুল হাসান মুন্না।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ময়মনসিংহ-৩-এর হালুয়াঘাট জোনাল কার্যালয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে ঝড়ের পর উপজেলার ৩৩ কেভি মূল লাইনের তিনটি পয়েন্টে তিনটি খুঁটিসহ বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৫টি খুঁটি ভেঙে যায়। এতে উপজেলার পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ সচল করতে কাজ শুরু করলে আজ বিকেলে (এ রিপোট লেখা পর্যন্ত) উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে জুগলি, ভূবনকুড়া, গাজীরভিটা, কৈচাপুর, নড়াইল, ধুরাইল, আমতৈল ও স্বদেশী ধারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে আংশিক সচল হয়। তবে শাকুয়াই ও বিলডোরা ইউনিয়নের কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ সচল করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। দুই দিন ধরে অনলাইন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ওইসব এলাকায়।

আজ বিকেল ৫টায় শাকুয়াই মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কারও হাতে মোবাইল, কারও হাতে টর্চলাইট নিয়ে জটলা। জটলায় গিয়ে দেখা যায়, ডিজেলচালিত বৈদ্যুতিক জেনারেটর (ডায়নামা) চলছে। এখানে কয়েক শ মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট।

স্থানীয় তরুণ জুয়েল খান জানান, দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় সবার মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন তাঁরা। পরে তাঁর উদ্যোগে ভাড়ায় ডিজেলচালিত বৈদ্যুতিক জেনারেটর আনা হয়। জনপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ও টর্চলাইটে চার্জ।

জেনারেটরে চার্জ দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন। ছবি: আজকের পত্রিকা
জেনারেটরে চার্জ দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিলডোরা এলাকার মোফাজ্জল বলেন, ‘কী কয়য়াম ভাই, আমরার দুঃখ কেউ দেহে না। দুই দিন ধইরা বিদ্যুৎ নাই। রোজা-রমজানের দিন। সেহরির সময় মোমববাতি জ্বলাইয়া খুব কষ্ট কইরা রান্না করতে অইতেছে।’

ময়মনসিংহের একটি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্যাহ আল সাদ বলেন, ‘বাড়িতে আসার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া তারাবি নামাজ ও সেহরির সময় মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিদ্যুৎ কবে নাগাদ সচল হবে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ময়মনসিংহ-৩-এর জোনালের ডিজিএম মো. মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সচল করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে সব ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, শাকুয়াই, বিলডোরা ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামীকাল সব লাইন চালু করার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এই উপজেলায় সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের, বৈশিষ্ট্য কী

র‍্যাবের নতুন ডিজি আহসান হাবীব, এসবি প্রধান নুরুল আমিন, সিআইডি প্রধান মোসলেহ উদ্দিন

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত