ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তাঁর কাছে মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘পাওনাদার’ পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখেছেন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আবেগঘন ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ওই খোলা চিঠিটি পোস্ট করলে তা মুহূর্তে মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠিতে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে ‘মহোদয়’ সম্বোধন করে মোহাম্মদ আলী লিখেন, আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে আমরা জামালপুরবাসী পিছিয়ে পড়া এক জনপদের মানুষ। বন্যা-ভাঙনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো আমরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ ছাড়া রয়েছে আমাদের চারিত্রিক সমস্যা। অমানবিকতা, অনৈতিকতা ও হীন মানসিকতার মতো সামাজিক বিপর্যয়! যেগুলো স্মার্ট জামালপুর গড়ার প্রধান অন্তরায়।
আমাদের জেলায় কোনো কর্মসংস্থান নেই। আমরা বেশির ভাগ শিক্ষিত মানুষ কর্মহীন ও বেকার। যোগ্য ব্যক্তির যোগ্য কাজ নেই। একমাত্র আশীর্বাদ সরকারি চাকরি। সেটারও দেখা মিলে কালেভদ্রে। তা-ও আবার সেখানে যোগ্যতার মাপকাঠি হয় টাকায়! অতএব, সেই হরিণ জোটে না সবার কপালে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে টাকা ছাড়া মিলে না চিকিৎসা। তারপরেও সময়ের ডাক্তার আসেন না সময়ে। সিজারিয়ানের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না মায়েরা। কমছে না ইমার্জেন্সি রোগীদের ময়মনসিংহমুখী রেফার্ড প্রবণতা। সেবিকার সেবার কথা নাইবা বললাম।
শিক্ষা তো এখন বড় বাণিজ্য। স্কুলের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট কোচিং না করলে, মিলে না প্রাপ্য নম্বর। শিক্ষকেরা এখন স্কুলে পাঠদানের চাইতে টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগী। আছে একই স্কুলে প্রতিবছর ভর্তির হওয়ার বাধ্যবাধকতা।
টাকা না দিলে থানায় রেকর্ড হয় না ভিকটিমের মামলা। মিলে না চার্জশিট। মক্কেলের কাছ থেকে ফি নিয়েও কোর্টে দাঁড়ায় না উকিল। সড়কে অবৈধ যানবাহনের ছড়াছড়ি থাকলেও চেকিংয়ের মুখে পড়ে শুধু মোটরসাইকেল আরোহীরা। ট্রেনের টিকিট তো আরেক সোনার হরিণ। আসনের চেয়ে যাত্রী বেশি। দুই দিন পরের টিকিট মিলে না দুই দিন আগে গেলেও। তবে, বাড়তি টাকা গুনলে কালোবাজারিদের কাছে মিলে ২৪ ঘণ্টায়!
জামালপুরবাসীর ভোগান্তির আরেক নাম সড়কপথ। জামালপুর থেকে ঢাকা গমনাগমনে নেই কোনো প্রথম শ্রেণির বা মানসম্পন্ন বাস। রাজিব নামের আন্তলোকাল বাসের কাছে জিম্মি আমরা। যা থেকে সহসা পরিত্রাণ মিলছে না যাত্রীসাধারণের।
জন্মের পর ঘুষ দিয়ে নিবন্ধিত হতে হয় আমাদের সন্তানদের, চলে মৃত্যুসনদ পর্যন্ত। ঘুষ ছাড়া মিলে না গাড়ি বা চালকের লাইসেন্স। দলিল, পরচা, খাজনা, খারিজ, নকল কপি, ভূমি জরিপ—এসব ক্ষেত্রে ঘুষ তো ওপেন সিক্রেট।
খাল দখল, নদী দখল, খাস দখল, এগুলো তো পুরোনো রীতি। এখন দখল থেকে রেহাই পাচ্ছে সড়ক, ফুটপাত ও রেলওয়ের পায়ে চলার পথ।
হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতার আগুন তো থামছেই না। সকালের দামে মিলছে না বিকেলের নিত্যপণ্য। ১০ টাকা আলু এখন ৬০ টাকা। মাছ-মাংস চলে গেছে গরিবের নাগালের বাইরে। নির্ভেজাল টাকায় কিনতে হচ্ছে, ভেজাল পণ্য। মাছ, মাংস, ফলমূল, চাল, ডাল, শাক-সবজি, তেল, লবণ ডিমে সবটাতে ভেজাল। হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয় মরা গরু, মরা মুরগির মাংস। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের চড়ামূল্য তো জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদগুলো পরিণত হয়েছে মুদির দোকানে। গরিবের জন্য বরাদ্দকৃত চালগুলো ওঠে মহাজনদের গুদামে। কাবিটা চলে যায় ডিলার নামের কালোবাজারিদের পকেটে। প্রতিটি সরকারি সুবিধার কার্ড বিক্রি হয় পণ্যের ন্যায়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা সবই টাকায় কিনতে হয়। টাকা দিলে অযোগ্য ব্যক্তিরাও পায়, না দিলে পায় না যোগ্যরাও।
ভয়াবহ মাদকের ছোবলে জামালপুরের যুব সমাজ। ধ্বংস হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও পরিবেশ। একদিকে মেধা-মনন ও নৈতিকতার অবক্ষয়। অন্যদিকে, মাদকের কারবারকে পেশা হিসেবে নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে হাত থেকে হাতে, ঘর থেকে ঘরে, লোকালয় থেকে লোকালয়ে। এর করাল গ্রাস থেকে আমি, আমরা কেউ নিরাপদ নই।
আপনাকে আমরা অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ঋণ (ভোট) দিয়েছি। আশা করি, আমাদের ইট-পাথরের পথগুলো মেরামতের পাশাপাশি জীবন চলার পথগুলোকে মেরামত করে দেবেন। ভেঙেচুরে ঠিক করে দেবেন দুর্নীতি, অনিয়ম, সুদ-ঘুষ জর্জরিত ঘুণে ধরা সমাজটাকে।
এ জেলার প্রতিটি মানুষ যেন তাঁদের জন্মগত মৌলিক ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
নিবেদক,
আপনার পাওনাদারদের একজন, মোহাম্মদ আলী।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আলী পৌর শহরের পাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সাংবাদিক। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নিয়োজিত ছিলেন।

জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তাঁর কাছে মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘পাওনাদার’ পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখেছেন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আবেগঘন ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ওই খোলা চিঠিটি পোস্ট করলে তা মুহূর্তে মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠিতে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে ‘মহোদয়’ সম্বোধন করে মোহাম্মদ আলী লিখেন, আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে আমরা জামালপুরবাসী পিছিয়ে পড়া এক জনপদের মানুষ। বন্যা-ভাঙনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো আমরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ ছাড়া রয়েছে আমাদের চারিত্রিক সমস্যা। অমানবিকতা, অনৈতিকতা ও হীন মানসিকতার মতো সামাজিক বিপর্যয়! যেগুলো স্মার্ট জামালপুর গড়ার প্রধান অন্তরায়।
আমাদের জেলায় কোনো কর্মসংস্থান নেই। আমরা বেশির ভাগ শিক্ষিত মানুষ কর্মহীন ও বেকার। যোগ্য ব্যক্তির যোগ্য কাজ নেই। একমাত্র আশীর্বাদ সরকারি চাকরি। সেটারও দেখা মিলে কালেভদ্রে। তা-ও আবার সেখানে যোগ্যতার মাপকাঠি হয় টাকায়! অতএব, সেই হরিণ জোটে না সবার কপালে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে টাকা ছাড়া মিলে না চিকিৎসা। তারপরেও সময়ের ডাক্তার আসেন না সময়ে। সিজারিয়ানের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না মায়েরা। কমছে না ইমার্জেন্সি রোগীদের ময়মনসিংহমুখী রেফার্ড প্রবণতা। সেবিকার সেবার কথা নাইবা বললাম।
শিক্ষা তো এখন বড় বাণিজ্য। স্কুলের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট কোচিং না করলে, মিলে না প্রাপ্য নম্বর। শিক্ষকেরা এখন স্কুলে পাঠদানের চাইতে টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগী। আছে একই স্কুলে প্রতিবছর ভর্তির হওয়ার বাধ্যবাধকতা।
টাকা না দিলে থানায় রেকর্ড হয় না ভিকটিমের মামলা। মিলে না চার্জশিট। মক্কেলের কাছ থেকে ফি নিয়েও কোর্টে দাঁড়ায় না উকিল। সড়কে অবৈধ যানবাহনের ছড়াছড়ি থাকলেও চেকিংয়ের মুখে পড়ে শুধু মোটরসাইকেল আরোহীরা। ট্রেনের টিকিট তো আরেক সোনার হরিণ। আসনের চেয়ে যাত্রী বেশি। দুই দিন পরের টিকিট মিলে না দুই দিন আগে গেলেও। তবে, বাড়তি টাকা গুনলে কালোবাজারিদের কাছে মিলে ২৪ ঘণ্টায়!
জামালপুরবাসীর ভোগান্তির আরেক নাম সড়কপথ। জামালপুর থেকে ঢাকা গমনাগমনে নেই কোনো প্রথম শ্রেণির বা মানসম্পন্ন বাস। রাজিব নামের আন্তলোকাল বাসের কাছে জিম্মি আমরা। যা থেকে সহসা পরিত্রাণ মিলছে না যাত্রীসাধারণের।
জন্মের পর ঘুষ দিয়ে নিবন্ধিত হতে হয় আমাদের সন্তানদের, চলে মৃত্যুসনদ পর্যন্ত। ঘুষ ছাড়া মিলে না গাড়ি বা চালকের লাইসেন্স। দলিল, পরচা, খাজনা, খারিজ, নকল কপি, ভূমি জরিপ—এসব ক্ষেত্রে ঘুষ তো ওপেন সিক্রেট।
খাল দখল, নদী দখল, খাস দখল, এগুলো তো পুরোনো রীতি। এখন দখল থেকে রেহাই পাচ্ছে সড়ক, ফুটপাত ও রেলওয়ের পায়ে চলার পথ।
হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতার আগুন তো থামছেই না। সকালের দামে মিলছে না বিকেলের নিত্যপণ্য। ১০ টাকা আলু এখন ৬০ টাকা। মাছ-মাংস চলে গেছে গরিবের নাগালের বাইরে। নির্ভেজাল টাকায় কিনতে হচ্ছে, ভেজাল পণ্য। মাছ, মাংস, ফলমূল, চাল, ডাল, শাক-সবজি, তেল, লবণ ডিমে সবটাতে ভেজাল। হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয় মরা গরু, মরা মুরগির মাংস। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের চড়ামূল্য তো জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদগুলো পরিণত হয়েছে মুদির দোকানে। গরিবের জন্য বরাদ্দকৃত চালগুলো ওঠে মহাজনদের গুদামে। কাবিটা চলে যায় ডিলার নামের কালোবাজারিদের পকেটে। প্রতিটি সরকারি সুবিধার কার্ড বিক্রি হয় পণ্যের ন্যায়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা সবই টাকায় কিনতে হয়। টাকা দিলে অযোগ্য ব্যক্তিরাও পায়, না দিলে পায় না যোগ্যরাও।
ভয়াবহ মাদকের ছোবলে জামালপুরের যুব সমাজ। ধ্বংস হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও পরিবেশ। একদিকে মেধা-মনন ও নৈতিকতার অবক্ষয়। অন্যদিকে, মাদকের কারবারকে পেশা হিসেবে নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে হাত থেকে হাতে, ঘর থেকে ঘরে, লোকালয় থেকে লোকালয়ে। এর করাল গ্রাস থেকে আমি, আমরা কেউ নিরাপদ নই।
আপনাকে আমরা অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ঋণ (ভোট) দিয়েছি। আশা করি, আমাদের ইট-পাথরের পথগুলো মেরামতের পাশাপাশি জীবন চলার পথগুলোকে মেরামত করে দেবেন। ভেঙেচুরে ঠিক করে দেবেন দুর্নীতি, অনিয়ম, সুদ-ঘুষ জর্জরিত ঘুণে ধরা সমাজটাকে।
এ জেলার প্রতিটি মানুষ যেন তাঁদের জন্মগত মৌলিক ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
নিবেদক,
আপনার পাওনাদারদের একজন, মোহাম্মদ আলী।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আলী পৌর শহরের পাথালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সাংবাদিক। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নিয়োজিত ছিলেন।

বিলম্বের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন রেলপথ প্রকল্প। ইতিমধ্যে চার দফা মেয়াদ বাড়ানো এই প্রকল্প শেষ করতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক যুগে প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
৪ ঘণ্টা আগে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
যুগ যুগ ধরে সমুদ্রের পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন করে আসছেন কৃষকেরা। তবে লবণ উৎপাদন কারখানার পরিত্যক্ত পানি দিয়ে আবার লবণ তৈরির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কৃষকেরা।
৫ ঘণ্টা আগে
খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে বস্তা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরোনো নিম্নমানের বস্তা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তাদের দাবি...
৫ ঘণ্টা আগে