Ajker Patrika

৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ
নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজার এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা সাড়ে আট ঘণ্টার বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর দাবি অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করাসহ খাল দখল জলাবদ্ধতার মূল কারণ।

জানা গেছে, নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এসব এলাকার প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার অলিগলির অনেকটাই পানির নিচে।

সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে যায়।’

হেলথ অফিসার গলির হামিদা আক্তার বলেন, ‘বাসাতে পানি ঢুকে আসবাব ভিজে গেছে। প্রতিবছর এই সময় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ি। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমাদের এই অবস্থা।’

অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে রোগী নিচ্ছিলেন জামালপুরের আবুল বাশার। পথিমধ্যে চরপাড়া মোড়ে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির শিকার হন তিনি। এ সময় জামাল বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি। অ্যাম্বুলেন্সে কয়েক শ মিটার রাস্তা পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালেও পানি উঠেছে।’

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অনেক জায়গায় ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সামনের সড়ক। ছবি: আজকের পত্রিকা
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সামনের সড়ক। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন খনন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছরে ময়মনসিংহ জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড এটি।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে হাসপাতাল চত্বরে পানি ঢোকে। দুপুর হলেও তা নিষ্কাশন হয়নি। এক নম্বর গাইনিতে পানি ঢুকে পড়লে রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নামছে। মূলত অলিগলিতে পানি জমেছে। বহুতল ভবনের মালিকেরা ড্রেনে ময়লা ফেলায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত