মহিউদ্দিন রানা, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

‘পকেটে ট্যাকা থাকলে বাজারে মাইনষের খাওয়নের অভাব নাই। কিন্তু আইজ এক সপ্তাহ ধইরা মেলা জায়গায় খোঁজখবর লাগাইয়াও গরুর খাওয়ন বন (খড়) পাইতাছিনা। খালি কি এইডাই? একেতে বাজারে জিনিসপাতির দামে আগুন, অন্যহাইন্দ্যা বাড়ছে গরুর খাওয়ন ভুসি, কুঁড়া, খুদসহ ব্যাক (সব) কিছুর দাম। অহন নিজেরা খাইয়া বাঁচবাম, নাকি গরুরে খাওয়াইয়াম! মাথাত ধরে না। মনে হইতাছে গরু পালন ছাইড়া দেওয়ন লাগব।’
আক্ষেপের স্বরে গতকাল শুক্রবার এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাটেস গরুর দুধ বিক্রি করতে আসা আজিজুল হক নামের এক প্রান্তিক খামারি।
আলাপকালে আজিজুল হক জানান, তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামে। পেশায় তিনি একজন রিকশাচালক। গোয়ালে দুটি গাভিসহ পাঁচটি গরু রয়েছে তাঁর। সারা দিন গরুর কাজ শেষ করে বিকেলে দুধ বিক্রি করেন ঈশ্বরগঞ্জের হাটে। পরে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালান পায়ে প্যাডেলের রিকশা।
আজিজুল হক আরও জানান, নিজেদের খোরাকির চালের পাশাপাশি গরুর খোরাকি বন (খড়) শেষ আরও দুই মাস আগে। বাজারে ভুসি, কুঁড়া, খুদসহ সবকিছুর দাম বাড়ায় দুটি গাভির দৈনিক ৫ থেকে ৬ লিটার দুধ বিক্রি করে গোখাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তাই রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসারের খরচ আর গরুর খরচ চালাচ্ছেন বলে জানান আজিজুল।
শুধু আজিজুল হক নয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন ছোট খামারিসহ ৮ থেকে ১০ জন বড় খামারির সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদকের। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিত্যপণ্যের পাশাপাশি দফায় দফায় গো-খাদ্য গমের ভুসি, ডালের খোসা, চালের খুদ, ধানের কুঁড়াসহ বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম ফিডের (দানাদার খাবার) দাম বেড়ে গেছে।
শুধু তা-ই নয়, দফায় দফায় বেড়েছে গবাদিপশুর ওষুধের দামও। এ ছাড়াও অন্যান্য বছরে এই সময়টাতে উপজেলায় গো-খাদ্য খড় স্বাভাবিক থাকলেও মাসখানেক আগে টানা বর্ষণে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জমির খড় পচে যাওয়ায় এ বছর খড়ের সংকট প্রকট। এ অবস্থায় চাহিদার তুলনায় খড়ের জোগান না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিসহ বড় খামারিরা।
পৌর এলাকার বুকচিড়ে বওয়া যাওয়া কাঁচামাটিয়া নদীর পাড়ের দত্তপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর ধাওয়ামাড়ি (ধানকাটা) শুরু হলে বনের অভাব থাকে না। তবে এই বছর যে বাও দেখতাছি বনেই পাওয়া যাইতোনা। এর কারণ হইলো, মাসখানেক আগে একদিনের মেঘে (বৃষ্টিতে) মাইনষের সব ধান ডুবাইয়ালছিন। এমুনো জমি আছে ১৫ দিনেও পানি নামছে না। যেই কারণে মেলা জমির ধান-বন দুইডাই নষ্ট হইয়া পঁইচ্ছা গেছে।’
উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামের খামারি রায়হান বলেন, ‘এভাবে দিনের পর দিন গো-খাদ্যের দাম বাড়লে খামারিরা খুব বেশি দিন টিকতে পারবেনা। গাভিকে খড়ের পাশাপাশি ফিড, খুদ, কুঁড়া, ভুসি, ডালের খোসা না খাওয়ালেতো দুধ পাওয়া যাবে না। কিন্তু গো-খাদ্যের যে হারে দাম বাড়ছে ওই তুলনায় দুধের দাম বাড়ছে না। দুধের পাইকারেরা আমাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা লিটারে দুধ নিত, এখনো তা-ই দেয়’।
কথা হয় একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের খামারি মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খড়ের সংকট, গো-খাদ্যেসহ ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু পালন আর পোষাচ্ছে না। এসব কিছুর দাম বাড়লেও বাজারে গরু সস্তা। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছি আমরা। না পারছি কম দামে গরু বিক্রি করতে, না পারছি খামার টিকিয়ে রাখতে।’
আঠারবাড়ি রায়েরবাজারে গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রেতা মোজাম্মেল হক হিরণ বলেন, ‘প্রতিটা ওষুধের দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানির লোকজন। এ অবস্থায় আমরা খুচরো বিক্রেতারা পড়েছি চরম বিড়ম্বনায়। হঠাৎই দাম বাড়ায় ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন এ নিয়ে’।
পৌর এলাকার গো-খাদ্য ব্যবসায়ী অনুপ চন্দ্র দে তপু বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ব্যবধানে গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোম্পানি দাম না কমালে দাম কমার সুযোগ নেই’।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলায় এ বছর অনেক জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। সময়মতো পানি না নামতে পারায় অনেক জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কারণে এ বছর গো-খাদ্য খড় সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কাটাতে আমরা খামারিদের কৃত্রিম ঘাস চাষের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে খড়ের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দানাদার খাবারের চাহিদাও পূরণ করবে’।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম ঘাস ব্যবহারে একদিকে গরু পালনে খরচ অনেক কমে যাবে অন্যদিকে গাভির দুধও বাড়বে।

‘পকেটে ট্যাকা থাকলে বাজারে মাইনষের খাওয়নের অভাব নাই। কিন্তু আইজ এক সপ্তাহ ধইরা মেলা জায়গায় খোঁজখবর লাগাইয়াও গরুর খাওয়ন বন (খড়) পাইতাছিনা। খালি কি এইডাই? একেতে বাজারে জিনিসপাতির দামে আগুন, অন্যহাইন্দ্যা বাড়ছে গরুর খাওয়ন ভুসি, কুঁড়া, খুদসহ ব্যাক (সব) কিছুর দাম। অহন নিজেরা খাইয়া বাঁচবাম, নাকি গরুরে খাওয়াইয়াম! মাথাত ধরে না। মনে হইতাছে গরু পালন ছাইড়া দেওয়ন লাগব।’
আক্ষেপের স্বরে গতকাল শুক্রবার এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাটেস গরুর দুধ বিক্রি করতে আসা আজিজুল হক নামের এক প্রান্তিক খামারি।
আলাপকালে আজিজুল হক জানান, তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া গ্রামে। পেশায় তিনি একজন রিকশাচালক। গোয়ালে দুটি গাভিসহ পাঁচটি গরু রয়েছে তাঁর। সারা দিন গরুর কাজ শেষ করে বিকেলে দুধ বিক্রি করেন ঈশ্বরগঞ্জের হাটে। পরে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালান পায়ে প্যাডেলের রিকশা।
আজিজুল হক আরও জানান, নিজেদের খোরাকির চালের পাশাপাশি গরুর খোরাকি বন (খড়) শেষ আরও দুই মাস আগে। বাজারে ভুসি, কুঁড়া, খুদসহ সবকিছুর দাম বাড়ায় দুটি গাভির দৈনিক ৫ থেকে ৬ লিটার দুধ বিক্রি করে গোখাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তাই রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসারের খরচ আর গরুর খরচ চালাচ্ছেন বলে জানান আজিজুল।
শুধু আজিজুল হক নয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন ছোট খামারিসহ ৮ থেকে ১০ জন বড় খামারির সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদকের। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিত্যপণ্যের পাশাপাশি দফায় দফায় গো-খাদ্য গমের ভুসি, ডালের খোসা, চালের খুদ, ধানের কুঁড়াসহ বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম ফিডের (দানাদার খাবার) দাম বেড়ে গেছে।
শুধু তা-ই নয়, দফায় দফায় বেড়েছে গবাদিপশুর ওষুধের দামও। এ ছাড়াও অন্যান্য বছরে এই সময়টাতে উপজেলায় গো-খাদ্য খড় স্বাভাবিক থাকলেও মাসখানেক আগে টানা বর্ষণে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জমির খড় পচে যাওয়ায় এ বছর খড়ের সংকট প্রকট। এ অবস্থায় চাহিদার তুলনায় খড়ের জোগান না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিসহ বড় খামারিরা।
পৌর এলাকার বুকচিড়ে বওয়া যাওয়া কাঁচামাটিয়া নদীর পাড়ের দত্তপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর ধাওয়ামাড়ি (ধানকাটা) শুরু হলে বনের অভাব থাকে না। তবে এই বছর যে বাও দেখতাছি বনেই পাওয়া যাইতোনা। এর কারণ হইলো, মাসখানেক আগে একদিনের মেঘে (বৃষ্টিতে) মাইনষের সব ধান ডুবাইয়ালছিন। এমুনো জমি আছে ১৫ দিনেও পানি নামছে না। যেই কারণে মেলা জমির ধান-বন দুইডাই নষ্ট হইয়া পঁইচ্ছা গেছে।’
উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামের খামারি রায়হান বলেন, ‘এভাবে দিনের পর দিন গো-খাদ্যের দাম বাড়লে খামারিরা খুব বেশি দিন টিকতে পারবেনা। গাভিকে খড়ের পাশাপাশি ফিড, খুদ, কুঁড়া, ভুসি, ডালের খোসা না খাওয়ালেতো দুধ পাওয়া যাবে না। কিন্তু গো-খাদ্যের যে হারে দাম বাড়ছে ওই তুলনায় দুধের দাম বাড়ছে না। দুধের পাইকারেরা আমাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা লিটারে দুধ নিত, এখনো তা-ই দেয়’।
কথা হয় একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের খামারি মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খড়ের সংকট, গো-খাদ্যেসহ ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু পালন আর পোষাচ্ছে না। এসব কিছুর দাম বাড়লেও বাজারে গরু সস্তা। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছি আমরা। না পারছি কম দামে গরু বিক্রি করতে, না পারছি খামার টিকিয়ে রাখতে।’
আঠারবাড়ি রায়েরবাজারে গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রেতা মোজাম্মেল হক হিরণ বলেন, ‘প্রতিটা ওষুধের দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কোম্পানির লোকজন। এ অবস্থায় আমরা খুচরো বিক্রেতারা পড়েছি চরম বিড়ম্বনায়। হঠাৎই দাম বাড়ায় ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন এ নিয়ে’।
পৌর এলাকার গো-খাদ্য ব্যবসায়ী অনুপ চন্দ্র দে তপু বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ব্যবধানে গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোম্পানি দাম না কমালে দাম কমার সুযোগ নেই’।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলায় এ বছর অনেক জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। সময়মতো পানি না নামতে পারায় অনেক জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কারণে এ বছর গো-খাদ্য খড় সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কাটাতে আমরা খামারিদের কৃত্রিম ঘাস চাষের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে খড়ের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দানাদার খাবারের চাহিদাও পূরণ করবে’।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম ঘাস ব্যবহারে একদিকে গরু পালনে খরচ অনেক কমে যাবে অন্যদিকে গাভির দুধও বাড়বে।

দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নতুন ফসল হয়ে উঠেছে মুক্তির পথ। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হাজেরা বেগম (৪৫) ব্রকলি চাষ করে প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও লাভজনক কৃষিতে সফল হতে পারেন।
৫ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
৫ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতি
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতিসহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে
৬ ঘণ্টা আগে