Ajker Patrika

মাকে মারধর করে শিশুকে ছিনিয়ে ২ লাখে বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ২১
মাকে মারধর করে শিশুকে ছিনিয়ে ২ লাখে বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫
পাচারের শিকার শিশুর স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন শিশুটির মা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাঁদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়িতে। পরে রোজিনা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।

পাচারের শিকার শিশুর স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত
পাচারের শিকার শিশুর স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

রোজিনা পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তাঁর স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর তদন্তে শিশুটির অবস্থান দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। তাঁরা শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিয়েছিলেন। তবে শিশুটিকে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।

ওসি বলেন, শিশুটি নিরাপদে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত