Ajker Patrika

নাগরিকদের গোপন তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৪৩
নাগরিকদের গোপন তথ্য কেনাবেচার অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল সিমের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), এসএমএস (খুদে বার্তা), পাসপোর্টসহ নাগরিকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

আজ বুধবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগেই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সিডিআর সংগ্রহ করার অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

তথ্য বলছে, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া জিডি ও মামলার তথ্য দিয়ে সিডিআর, এনআইডি তথ্য, লাস্ট কল লোকেশনসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি করা হতো। এসব অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান ওই চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রমনা থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে বেআইনিভাবে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ও নাগরিকের সিম বা মোবাইল ফোন নম্বরের কললিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন, এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমে ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট ও টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য নজরে আসে। পরে অনুসন্ধানে সিডিআর বিক্রির টাকা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল ফোন নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডি তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ জন্য তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর ও একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে ওই নম্বরের কোনো জিডি থানায় নথিভুক্ত হয়নি বলে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট এএসআইও এসব নম্বরের সিডিআর চাননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত