
দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, হতাশা ও মানসিক চাপে অশান্তি আসা স্বাভাবিক। মন অস্থির থাকলে কোনো কাজেই মন বসে না, সবকিছুই যেন বিষাদময় মনে হয়। এমন মুহূর্তে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সুন্নাহসম্মত জিকির ও দোয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ কিছু দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় চাইতেন। নিচে মনের অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার চারটি ছোট ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ দোয়া তুলে ধরা হলো:
আরবি:
اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو فَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইন, ওয়া আসলিহ লি শানি কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।’
অর্থ:
‘হে আল্লাহ, আমি একমাত্র আপনার রহমতেরই আশা করি। তাই এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। বরং আমার যাবতীয় বিষয় আপনি সুন্দরভাবে সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নেই।’
(সুনানে আবু দাউদ: ৫০০২)
আরবি:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
উচ্চারণ:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।’
অর্থ:
‘মহীয়ান ও সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আসমানসমূহ ও জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।’
(সহিহ মুসলিম: ৬৬৭২)
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’
অর্থ:
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের চাপ/প্রাধান্য থেকে পানাহ চাই।’
(সহিহ বুখারি: ২৬৯৪)
আরবি:
اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لاَ أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
উচ্চারণ:
‘আল্লাহু আল্লাহু রাব্বি, লা উশরিকু বিহি শাইআ।’
অর্থ:
‘আল্লাহ, পরম সত্তা আল্লাহই আমার প্রভু; আমি তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করি না।’
(সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৫)
মনের অস্থিরতা ও পেরেশানি অনুভব করলে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা এবং একাগ্রচিত্তে ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়াগুলো বারবার পাঠ করা উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের মনকে অশান্তি থেকে মুক্ত রেখে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিন।

আরবি ‘সবর’ শব্দের অর্থ হলো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযম। রূপক অর্থে সবরকে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা আহরণ করতে গেলে হাত ক্ষতবিক্ষত হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত পরিণাম অত্যন্ত মিষ্টি। জীবনের নানা কণ্টকাকীর্ণ পথে সবরের মাধ্যমেই মানুষ আত্মিক স্বস্তি ও স্থিরতা খুঁজে...
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১১ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা ঘুমের ভুলের কারণে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে—‘ফজরের নামাজের শেষ সময় মূলত কখন?’ কিংবা ‘সূর্যোদয়ের ঠিক কতক্ষণ পর কাজা নামাজ আদায় করা যায়?’ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত, শেষ সময় এবং কাজা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে সঠিক তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১৬ ঘণ্টা আগে
ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি ও পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নামাজ। কালিমার মাধ্যমে ইমান আনয়নের পর একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। সঠিক নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যক বা ফরজ।
২১ ঘণ্টা আগে