Ajker Patrika

১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২২: ১৪
১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ
মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের ফলে ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ তাঁর ভাইকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।

তাঁদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল

সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় মাদ্রাসাছাত্রীর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার পর এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।

এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডি সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত