Ajker Patrika

গ্যাস-সংকটে ২৬ দিন বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৯
গ্যাস-সংকটে ২৬ দিন বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং
ময়মনসিংহে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) উৎপাদন বন্ধ। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটি অচল থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ১৯৯৭ সালে শম্ভুগঞ্জে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে আরপিসিএল। প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করেছে সঞ্চালন সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

কেন্দ্রটির উৎপাদন গত ২৬ দিন ধরে শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্য দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এতে বিভাগজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয় মূলত ওই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং এলাকাটিকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায়। তিন ধাপে এই প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। তবে কেন্দ্রটি বছরের পর বছর ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাস সংকট বাড়লে কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহ কমতে থাকে।

আরপিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না। এই পরিস্থিতি বহু বছর ধরে চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনের নাজুক পরিস্থিতি আরপিসিএলের বার্ষিক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রটির মাসভিত্তিক উৎপাদন কোনো কোনো মাসে ৪০ মেগাওয়াটের নিচেও নেমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং অনেক বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা এবং জেলা শহরে তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, বয়স্ক ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ময়মনসিংহ নগরীর কাঁচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা ও নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, ‘আগে তো এক থেকে দুবার লোডশেডিং ছিল। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমার এলাকায় চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং দেওয়া হয়। একই ভাবে রাতেও হচ্ছে লোডশেডিং।’

শেফালী আক্তার আরও বলেন, ‘প্রতিবারই এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং। এর সঙ্গে বাসায় গ্যাস সংকট লেগেই আছে। একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে গ্যাস নেই। কীভাবে রান্নাবান্না করবো। কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট কবে শেষ হবে, কেউ কিছু বলছেও না। কোন ভালো খবরও পাচ্ছি না। এভাবে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয়। তবে নগরের বাসিন্দারা এ তথ্য অস্বীকার করে বলেছেন, শহরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হলে এত ভোগান্তি হতো না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, ‘সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন তেল-গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহের জন্য। এর জন্য চুক্তি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেল-গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকটসহ গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এজন্য এখন আমাদের কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি না।’

ময়মনসিংহে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) উৎপাদন বন্ধ। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) উৎপাদন বন্ধ। ছবি: সংগৃহীত

এএইচএম রাশেদ আরও বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাতে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ রান্নাবান্নাও করতে পারছে না। দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। মানুষের কষ্ট হচ্ছে খুব। তবে আমরা যদি গ্যাস সরবরাহ পেয়ে যাই, তাহলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও উৎপাদন শুরু করতে পারব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত