
ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানির পর ইয়ার্ডের সৈকতে ভেড়ানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড’ থেকে প্রাথমিক অনুমতি (বিচিং পারমিশন) নিতে হয়। আর জাহাজের ফুয়েল ট্যাংক বা কার্গো হোল্ডে কোনো বিষাক্ত বা দাহ্য গ্যাস আছে কি না, তা পরীক্ষা করে ‘হট ওয়ার্ক/গ্যাসমুক্ত সনদ’ দেয় বিস্ফোরক অধিদপ্তর। এই সনদ ছাড়া জাহাজে কোনো গ্যাস কাটিং বা ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শুরু করা সম্পূর্ণ অবৈধ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনাকবলিত স্ক্র্যাপ জাহাজটি কাটার ক্ষেত্রেও এসব সংস্থার অনুমতি ছিল। তাহলে জাহাজে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৯ জনের প্রাণ গেল কেন?
উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে, তদারকির ঘাটতি। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে ঠিকই; কিন্তু আগে ঠিকমতো তদারকিই হয়নি।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে আসা ‘এমটি রাসি’ নামের এলএনজি ট্যাংকার জাহাজটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। ওই বছরের ১৩ জুলাই এটি ভাঙার জন্য ইয়ার্ডে তোলা হয়। ১৪ আগস্ট গ্যাস দুর্ঘটনার পরদিন বিস্ফোরক অধিদপ্তর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাহাজের ভেতরে অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস পাওয়ার কথা জানায়।
তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ‘ক্লিয়ারেন্স’ থাকার পরও জাহাজে এই বিষাক্ত গ্যাস থাকার বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাহাজ পরিদর্শন না করে ‘টেবিল মেইড’ সনদ বা অনুমতিপত্র দিয়ে সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব সেরেছেন।
পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সাহসী ভূমিকা রাখা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, একটি জাহাজ কাটার ক্ষেত্রে দেখভালের মূল দায়িত্ব বিস্ফোরক ও পরিবেশ—এই দুই অধিদপ্তরের। এসব সংস্থা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে এত বড় দুর্ঘটনা হয় কী করে? আসলে দেশে এসব সেক্টর দেখার দায়িত্বশীল কোনো অভিভাবক নেই।
তবে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করার পর জাহাজের যেসব পেট্রোলিয়াম ট্যাংক রয়েছে সেগুলো আমরা টেস্ট করেছি। টেস্টে কোনো ত্রুটি পাইনি। এরপর বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।’
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘যেখানে গ্যাসের বিষক্রিয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটা ছিল একটা ওয়াটার ট্যাঙ্ক। ওয়াটার ট্যাঙ্ক আমাদের টেস্টের আওতায় পড়ে না। এখন সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি কীভাবে এসেছে, তা তদন্তের বিষয়।’ তবে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে তাঁরা যখন পরীক্ষা করেন, তখন কোনো গ্যাসের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
ওই মামলার বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক শাহেদ পারভেজ বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি পরিদর্শন করেছিলেন তাঁরা। তখন নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এরপর ধাপে ধাপে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যথাযথ জবাব দেয়নি। শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলীকে আসামি করা হয়েছে।
তবে মালিকপক্ষ মামলা ও সতর্ক করার বিষয় না জানার কথা বললেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) সাইটে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তারেক ফেরদৌস নাঈমের এ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। ফলে মামলা ও সতর্ক করার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক বা অফিস প্রধান মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান।
এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের দায় কতটুকু—জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, জাহাজ ভাঙার অনুমতি দেওয়া একা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ নয়। এর জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ একাধিক সংস্থার যৌথ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া পুরো এলাকা কর্ডন বা ঘেরাও থাকায় তদন্ত শেষ না হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
এই ধরনের একটি জাহাজ কীভাবে অনুমতি পায়—প্রশ্ন করলে উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান জানান, অগ্নিকাণ্ডসংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা এই কারখানাকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিয়েছি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন জানান, আমদানি করা জাহাজের ‘গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট’ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভেতরে গ্যাস রয়ে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বেলা সাড়ে ১১টা। গ্যাসপাম্পের সামনে তখনো সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। কোনো চালক গাড়ির পাশে বসে আছেন, কেউ ক্লান্ত শরীরে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজেছেন। সবাই অপেক্ষায় কখন গ্যাস পাবেন, কখন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয় না।
১ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে মনু সেচ প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউস। কৃষকদের কথা চিন্তা করে হাওরের পানি কমানোর জন্য এই পাম্প স্থাপন করা হয়। একটা সময় এটি হাওরাঞ্চলের কৃষকের ভরসা ছিল। তবে এখন সেটিই যেন সংকটের কারণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি না কমায় কৃত্রিম
২ ঘণ্টা আগে
সারা দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় তাঁত বন্ধ থাকছে। এতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
২ ঘণ্টা আগে
‘বিজলি বহুত ডিস্টার্ব কর রাহি হ্যায়, ইস লিয়ে মালিক নে কারখানা বান্দ কার দিয়া। আভি মেরে পাস কাম নেহি হ্যায়। ঘার ক্যায়সে চালেগা। ঘার মে এক ছোটা বেটা, দো বেটিয়া অউর বুড়ি মা হ্যায়।’ কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার হালকা প্রকৌশল কারখানার শ্রমিক উর্দুভাষী মোহাম্মদ ওয়ারিস।
২ ঘণ্টা আগে