Ajker Patrika

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জের নিখোঁজ ৭ যুবকের পরিবারে আহাজারি

সুনামগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ১৮
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জের নিখোঁজ ৭ যুবকের পরিবারে আহাজারি
ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৭ জন। ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারের পর স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মোট ২৯ বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মিসরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস ১৬ আগস্টের এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদের মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৭ যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এদের পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে তাঁদের সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের রন্টু চন্দ্র পালের ছেলে হৃদয় চন্দ্র পাল, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের রাজ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে এনাম উদ্দিন ও হযরত খানের ছেলে মামুন খান, একই ইউনিয়নের রনসী গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের ছেলে ছাব্বির হোসেন তালহা।

৩ আগস্টের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির খবরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তাই স্বজনদের মাঝে আহাজারি শুরু হয়েছে।

জানা যায়, ৩ আগস্ট তাঁদের নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়া রাবারের নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে। নৌকাটিতে ৩৮ বাংলাদেশি ও ৪ সুদানিসহ ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। সাগরে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, খাদ্য ও পানির অভাবে ১০ জন অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি ও একজন সুদানি। একপর্যায়ে মৃতদেহে পচন ধরলে সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন জীবিত যাত্রীরা।

প্রায় ১১ দিন সাগরে ভাসমান থেকে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়।

পরে স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুমূর্ষু আব্দুল করিম এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছার পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে টানা ১১ দিন নৌকায় ভাসতে থাকেন তাঁরা। একপর্যায়ে খাদ্যাভাব ও পানি-সংকটে চোখের সামনে ৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। দুর্গন্ধ ছড়ানোয় বাধ্য হয়ে সাগরে ভাসিয়ে দিতে হয় তাদের।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। এর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত