
ময়মনসিংহে টয়লেটের পাশেই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পা দিয়ে মাড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে অনেকের প্রিয় খাবার সেমাই। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন বেশ কিছু কারখানায় এভাবে সেমাই উৎপাদন চলছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি নগরের চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার সেবা স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ পরিবেশ। টয়লেটের পাশেই সেমাই ভাজার কাজ চলছে। কারখানার ভেতর ও বাইরে নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। পোড়া ও ময়লাযুক্ত পাম তেলে সেমাই ভেজে স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কোনো অনুমোদনের কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।
একই চিত্র আলালপুর এলাকার মুসলিম ব্রেকার্স লাচ্ছা সেমাই কারখানায়। সেখানে পা দিয়ে মাড়িয়ে সেমাইয়ের খামির তৈরি করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। মাটির ওপরেই করা হচ্ছে প্যাকেটজাতকরণ। প্রশাসন অভিযান চালালেও ঈদকে ঘিরে কারখানাটি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে কয়েক শ সেমাই কারখানা। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
সেবা লাচ্ছা সেমাই উৎপাদনের দায়িত্বরত মো. রাহাত বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে কারখানাটি নতুন জায়গায় আনা হয়েছে। তবে এখানে ময়লা-আবর্জনা একটু বেশি। টয়লেট পাশে থাকলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যতগুলো কারখানা আছে, সবারটি এমনই। শুধু আমাদেরটা না।’
পা মাড়িয়ে খামির তৈরি করা আলালপুরের মুসলিম বেকার্স সেমাই কারখানার মালিক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার মূলত বেকারি ব্যবসা। তবে এবার ঈদকে সামনে রেখে সেমাই উৎপাদন করছি। অনুমোদনের জন্য আবেদনও করেছি। এর মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরিবেশ একটু খারাপ তা মানছি, তবে ভালো করার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকেরা পা দিয়ে মাড়িয়ে খামির তৈরি করছেন। ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
কারখানার শ্রমিক মো. রাজু বলেন, মালিকপক্ষ থেকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না করলে শ্রমিকদের কিছু করার থাকে না। সেমাইয়ের খামির তৈরি থেকে শুরু করে প্যাকেটজাতকরণ—সবকিছুতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে কারখানাটি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবেশ দেখে সেমাই খাওয়ার আগ্রহই কমে গেছে। এসব কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’
একই এলাকায় রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাশা আল্লাহ ও তোয়া-রশি লাচ্ছা সেমাই কারখানায় গিয়েও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গেছে।
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক মো. তরিকুল হাসান বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন এবং তা খেলে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্যানসার মানুষ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের আরও সতর্ক হতে হবে।’
নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির কারখানাগুলোকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক রিনা বেগম বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দেশনা না মানে তাহলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিজ কক্ষ থেকে ইসরাত জাহান সামিয়া (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পৌর সদরের নলুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৪ মিনিট আগে
জামালপুরের বকশীগঞ্জের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে জয়নাল আবদীন (৬৬) নামে এক বৃদ্ধ বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন। লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজের এক দিন পর শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় বকশীগঞ্জ উপজেলার ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমির বাগিচা টিলা এলাকা থেকে
৯ মিনিট আগে
গাজীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পুলক বর্মা নামে এক শিশু মারা গেছে। শনিবার (২৭ জুন) ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শিশুর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায়।
১৫ মিনিট আগে
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট এলাকায় কাজল আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টারের বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে