Ajker Patrika

গাজীপুরে ৫ খুন: মুন্সিগঞ্জে পদ্মায় ভাসছিল প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের লাশ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৮: ২৮
গাজীপুরে ৫ খুন: মুন্সিগঞ্জে পদ্মায় ভাসছিল প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের লাশ
পদ্মায় কচুরিপানায় মধ্যে মরদেহ ভাসছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে, শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস-সংলগ্ন পদ্মায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন নৌ পুলিশে খবর দেয়। নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে গাজীপুরের পাঁচ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমান মরদেহটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিজ কার্যালয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তাঁর পরিবার ও মামলার বাদী। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার বলেন, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অন্য একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে তিনি সীমান্ত পার হতে না পারেন। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাসের হেলপার থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেট কার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সেই সময় আরও বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাঁদের মনে হয়েছে, ভিডিওর ওই ব্যক্তি ফোরকান। তবে চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেট কারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৬), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত