Ajker Patrika

চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা মজুরি-বৈষম্যের শিকার, অধিকার বাস্তবায়নের দাবি

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা মজুরি-বৈষম্যের শিকার, অধিকার বাস্তবায়নের দাবি
চা বাগানে নিয়মিত-অনিয়মিত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন, যাদের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই নারী। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে নারী শ্রমিকেরা বৈষম্যমূলক মজুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের চাপে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত তাঁরা। মজুরি-বৈষম্য দূর ও শ্রম অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এসব নারী শ্রমিক।

শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প চা-শিল্পে প্রায় ৯ লাখ শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। এর মধ্যে বাগানে নিয়মিত-অনিয়মিত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন, যাঁদের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই নারী। এ ছাড়া বাগানের বাইরে আরও ৮০ থেকে ৯০ হাজার নারী শ্রমিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ভার বহন করানো নিষিদ্ধ হলেও চা-বাগানে নারী শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত ওজন বহন করানো হচ্ছে নিয়মিত।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন চা-বাগান ও বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ বাগানে নারী শ্রমিকদের কাগজে-কলমে ২২ কেজি চা-পাতা তোলার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২৪ কেজি বা তার বেশি তুলতে হয়। কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা পাওয়ার আশায় অনেকেই ৩০ কেজির ওপরে চা-পাতা উত্তোলন করেন। এ ছাড়া বাগানের বাইরে নারী শ্রমিকেরা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, মাটি কাটা, কৃষিকাজসহ নিয়মিত ভারী সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করছেন।

নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করলেও তাঁরা অর্ধেক মজুরি পান। যেখানে পুরুষ শ্রমিকেরা দিনে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন, সেখানে নারীরা পান ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

চা-বাগানের শ্রমিক চম্পা রেলী বলেন, ‘আমরা সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করি, ভারী কাজ করি। কিন্তু সে অনুযায়ী মজুরি পাই না। সব জায়গায় আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়।’

নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও উদ্বেগজনক। অধিকাংশ শ্রমিক মাসিক স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারেন না। আর্থিক অক্ষমতার কারণে অনেকেই কাপড় ব্যবহার করেন, যা দীর্ঘ সময় পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। এতে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া বাগানের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে গর্ভবতী নারীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে পথে সন্তান প্রসবের মতো ঘটনাও ঘটছে।

চা-শ্রমিকনেতা সীতারাম বীন বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করেও শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি পান না। চিকিৎসা, পুষ্টি ও মৌলিক সুবিধার অভাবে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে এ দেশে বসবাস করলেও চা-শ্রমিকেরা এখনো অবহেলিত। তাঁদের স্থায়ী বাসস্থান ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকেরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা বলছেন, তাঁদের জীবন যেন চা-গাছের মতোই ছাঁটাই করা—পরিশ্রম আছে, কিন্তু প্রাপ্য নেই। দ্রুত মজুরি-বৈষম্য দূর করে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৮ দিন পরে মামলা

এপস্টেইন দ্বীপের রহস্যময় ‘মসজিদ’: পবিত্র কাবার গিলাফ ও কিসওয়া চুরির তথ্য ফাঁস

নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কায় সবকিছুতে আপস করেছি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বোনের ক্যারিয়ার বাঁচাতে তদবির করেছেন প্রিয়াঙ্কা, তাঁর পরামর্শেই বিজেপিতে রাঘব!

আজকের রাশিফল: প্রাক্তনের ফোনে সংসারে সুনামি নামবে, আয়নায় নিজেকে ভেংচি কাটলে ইগো কমবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত