Ajker Patrika

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় বিদ্যালয় মাঠ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় বিদ্যালয় মাঠ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা
গাংনী উপজেলার দেবীপুর ডি জে এম সি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গতকাল তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সামান্য বৃষ্টিতেই মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর ডি জে এম সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে যেমন পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও পানি নিষ্কাশনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির পর বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দিন ধরে মাঠে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি মাঠে অ্যাসেম্বলি করতে না পেরে বিদ্যালয়ের হলরুমে অ্যাসেম্বলি আয়োজন করতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মো. হোসেন আলী বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অথচ দীর্ঘদিনেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং মাঠ ভরাট করে উঁচু করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলে আসছে। জমে থাকা নোংরা পানি থেকে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোরও আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে এলেও সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে যায়। এতে আমাদের পোশাক নোংরা হয়, পড়াশোনার ক্ষতি হয় এবং খেলাধুলাও করতে পারি না। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুই খাতুন বলেন, ‘দুই-তিন দিন ধরে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে ক্লাসে যেতে হয়। মাঠে অ্যাসেম্বলি করা যায় না, তাই হলরুমে করতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজিয়ে ফেলে। মাঠে পানি থাকায় খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে যায়।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি করা সম্ভব হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ পানিতে ডুবে যায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাও করতে পারবে।’

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে পাঠদান ও যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জলাবদ্ধতা দূর করার উপায় খুঁজে দেখা হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।’

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত