মেহেরপুর প্রতিনিধি

২৫০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশে বিশাল এক ছাতিম গাছ। প্রতিদিন এই গাছের নিচে ভিড় করেন বহু মানুষ। কেউ চিকিৎসার জন্য এসে এখানে ছায়ার নিচে জিরিয়ে নেন। আর কিছু মানুষ আসেন এই গাছের বাকল, ফুল, পাতা আর আঠা সংগ্রহের জন্য। ছোটখাটো রোগে হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এই ছাতিম গাছেই ভরসা করেন বহু মানুষ।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক পেরোতেই সামনে ছাতিম গাছ। গাছের নিচেই সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানো। দেখেই বোঝা যায় বহু পুরোনো। সাদা ফুলে ভরে গেছে গোটা গাছ। এক বোঁটায় সাতটি পাতা থাকে বলে এই গাছকে সপ্তছত্র, সপ্তপর্ণা বা সপ্তপর্ণী বলেও ডাকা হয়।
দেশে ছাতিম গাছ অবশ্য বিলুপ্তপ্রায়। তবে এ অঞ্চলে এখনো দু-একটা চোখে পড়ে বলে জানান মুজিবনগরের সোনাপুর সীমান্ত গ্রাম থেকে আসা তমিজুদ্দিন শেখ। ২৫-৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। পেটের পীড়া নিয়ে স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি। তমিজুদ্দিন বলেন, পেটের পীড়া, হৃদ্রোগ, উদরাময় নিরাময়ে ছাতিম গাছের বাকল বা বোঁটার আঠা বা রস খুবই উপকারী। তাই স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যদের জন্য এ গাছের পাতা ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ফুল সংগ্রহ করতে এসেছেন গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের তছলিমা খাতুন। তিনি বলেন, বইয়ে এই গাছের উপকারিতার কথা পড়ে হাসপাতালে আসলাম অসুস্থ দাদিকে দেখতে। সেই সঙ্গে ছাতিম ফুলও নেওয়া যাবে। মানসিক সতেজতা, দাঁতের যে কোনো রোগ, সর্দি বসে গেলে, যেকোনো ব্যথা নিরাময়ে এমনকি শ্বাসকষ্ট উপশমে ছাতিম গাছের ফুল এবং বাকলের রস খুবই কার্যকরী ওষুধ। তাই এক সঙ্গে দুই কাজ সারতে হাসপাতালে আসা। ছাতিমের ফুল ও বাকল নিয়ে যাচ্ছি, ওষুধ বানিয়ে নিজে খাব, অন্যদেরও দেব।
ভেষজ বা আয়ুর্বেদে যারা এখনো ভরসা করেন শুধু তাঁরাই যে এই ছাতিমের ছাল, বাকল সংগ্রহ করতে আসেন তা নয়, আশপাশের গ্রামে এখনো যে দু-এক জন কবিরাজ কোনো রকম টিকে আছেন তাঁরাও আসেন কাঁচামাল সংগ্রহ করতে। এমনই একজন হরিরামপুর গ্রামের সাব্বির মণ্ডল। আয়ুর্বেদিক দোকান আছে তাঁর এ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা দেন তিনি।
সাব্বির মণ্ডল বলেন, ছাতিম গাছের বাকল বা ছাল শুকিয়ে ওষুধ করলে দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা, আমাশয়, দুর্বলতা দূর হয়। ম্যালেরিয়া, জ্বর নামা, রক্তচাপ কমানোসহ ছাতিমের রস শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। তাই মাঝেমধ্যেই এখানে এসে ছাতিমের ফুল, ফল, বাকল, বোঁটা যখন যা পাই সংগ্রহ করে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে ওষুধ তৈরি করি।
ছাতিম গাছের ভেষজ গুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশবিদ এনামুল আযিম বকুল বলেন, ছাতিম আপাদমস্তক উপকারী একটি গাছ। জেলায় শতাধিক ছাতিম গাছ রয়েছে। নানা রোগ নিরাময়ের মহৌষধ হিসেবে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাসপাতালের ভেতরে থাকা ছাতিম গাছের ফলমূল, পাতা, ফুল নিতে যায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এ গাছ আর্দ্র, কর্দমাক্ত ও জলসিক্ত স্থানে বেশি হয়। দুর্লভ এ গাছ রক্ষা করা উচিত। এ গাছের কাঠ দিয়ে পেনসিল, দেশলাই ও খেলনা তৈরি করা হয়। ছাতিমের ফুলের ঘ্রাণ ও সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। একটা বোঁটায় সাতটি পাতা ছাতার মতো হয়ে বড় হয়। তাই গাছের নাম ছাতিম।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) রফিকুল ইসলাম বলেন, গাছটি কেটে ফেলার জন্য বহুবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপকারভোগী মানুষের ভিড় দেখে এবং এ গাছের উপকারিতা রয়েছে জেনে আর কাটা হয়নি। সন্ধ্যা এলে ছাতিম ফুলের সুঘ্রাণ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

২৫০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশে বিশাল এক ছাতিম গাছ। প্রতিদিন এই গাছের নিচে ভিড় করেন বহু মানুষ। কেউ চিকিৎসার জন্য এসে এখানে ছায়ার নিচে জিরিয়ে নেন। আর কিছু মানুষ আসেন এই গাছের বাকল, ফুল, পাতা আর আঠা সংগ্রহের জন্য। ছোটখাটো রোগে হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এই ছাতিম গাছেই ভরসা করেন বহু মানুষ।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক পেরোতেই সামনে ছাতিম গাছ। গাছের নিচেই সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানো। দেখেই বোঝা যায় বহু পুরোনো। সাদা ফুলে ভরে গেছে গোটা গাছ। এক বোঁটায় সাতটি পাতা থাকে বলে এই গাছকে সপ্তছত্র, সপ্তপর্ণা বা সপ্তপর্ণী বলেও ডাকা হয়।
দেশে ছাতিম গাছ অবশ্য বিলুপ্তপ্রায়। তবে এ অঞ্চলে এখনো দু-একটা চোখে পড়ে বলে জানান মুজিবনগরের সোনাপুর সীমান্ত গ্রাম থেকে আসা তমিজুদ্দিন শেখ। ২৫-৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। পেটের পীড়া নিয়ে স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি। তমিজুদ্দিন বলেন, পেটের পীড়া, হৃদ্রোগ, উদরাময় নিরাময়ে ছাতিম গাছের বাকল বা বোঁটার আঠা বা রস খুবই উপকারী। তাই স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যদের জন্য এ গাছের পাতা ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ফুল সংগ্রহ করতে এসেছেন গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের তছলিমা খাতুন। তিনি বলেন, বইয়ে এই গাছের উপকারিতার কথা পড়ে হাসপাতালে আসলাম অসুস্থ দাদিকে দেখতে। সেই সঙ্গে ছাতিম ফুলও নেওয়া যাবে। মানসিক সতেজতা, দাঁতের যে কোনো রোগ, সর্দি বসে গেলে, যেকোনো ব্যথা নিরাময়ে এমনকি শ্বাসকষ্ট উপশমে ছাতিম গাছের ফুল এবং বাকলের রস খুবই কার্যকরী ওষুধ। তাই এক সঙ্গে দুই কাজ সারতে হাসপাতালে আসা। ছাতিমের ফুল ও বাকল নিয়ে যাচ্ছি, ওষুধ বানিয়ে নিজে খাব, অন্যদেরও দেব।
ভেষজ বা আয়ুর্বেদে যারা এখনো ভরসা করেন শুধু তাঁরাই যে এই ছাতিমের ছাল, বাকল সংগ্রহ করতে আসেন তা নয়, আশপাশের গ্রামে এখনো যে দু-এক জন কবিরাজ কোনো রকম টিকে আছেন তাঁরাও আসেন কাঁচামাল সংগ্রহ করতে। এমনই একজন হরিরামপুর গ্রামের সাব্বির মণ্ডল। আয়ুর্বেদিক দোকান আছে তাঁর এ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা দেন তিনি।
সাব্বির মণ্ডল বলেন, ছাতিম গাছের বাকল বা ছাল শুকিয়ে ওষুধ করলে দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা, আমাশয়, দুর্বলতা দূর হয়। ম্যালেরিয়া, জ্বর নামা, রক্তচাপ কমানোসহ ছাতিমের রস শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। তাই মাঝেমধ্যেই এখানে এসে ছাতিমের ফুল, ফল, বাকল, বোঁটা যখন যা পাই সংগ্রহ করে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে ওষুধ তৈরি করি।
ছাতিম গাছের ভেষজ গুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশবিদ এনামুল আযিম বকুল বলেন, ছাতিম আপাদমস্তক উপকারী একটি গাছ। জেলায় শতাধিক ছাতিম গাছ রয়েছে। নানা রোগ নিরাময়ের মহৌষধ হিসেবে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাসপাতালের ভেতরে থাকা ছাতিম গাছের ফলমূল, পাতা, ফুল নিতে যায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এ গাছ আর্দ্র, কর্দমাক্ত ও জলসিক্ত স্থানে বেশি হয়। দুর্লভ এ গাছ রক্ষা করা উচিত। এ গাছের কাঠ দিয়ে পেনসিল, দেশলাই ও খেলনা তৈরি করা হয়। ছাতিমের ফুলের ঘ্রাণ ও সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। একটা বোঁটায় সাতটি পাতা ছাতার মতো হয়ে বড় হয়। তাই গাছের নাম ছাতিম।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) রফিকুল ইসলাম বলেন, গাছটি কেটে ফেলার জন্য বহুবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপকারভোগী মানুষের ভিড় দেখে এবং এ গাছের উপকারিতা রয়েছে জেনে আর কাটা হয়নি। সন্ধ্যা এলে ছাতিম ফুলের সুঘ্রাণ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট শাটডাউন চলাকালে এসব ব্যবসায়ী সাবেক স্বৈরাচার ও সাজাপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও সার্বিকভাবে পাশে থাকার জন্য ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে একত্রিত হন।
৭ মিনিট আগে
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে কাশেম মোল্লা (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আশুতিয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাশেম আশুতিয়া গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। তিনি পেশাগতভাবে অটোরিকশাচালক নন। শখের বসে চালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১৩ মিনিট আগে
মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা হুজাইফার মস্তিষ্কের ‘চাপ কমাতে’ তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে।
২২ মিনিট আগে
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিপ্লব চন্দ্র শীল (৩৮) নামের এক ইনস্যুরেন্স কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর ভগ্নিপতি পলাশ চন্দ্র শীল গুরুতর আহত হন। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার গলাকাটা পোল এলাকায় কবিরহাট-বসুরহাট সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৩৩ মিনিট আগে