Ajker Patrika

মানিকগঞ্জে মস্তকবিহীন লাশ অটোচালক রফিকের, গ্রেপ্তার ৩

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪৬
মানিকগঞ্জে মস্তকবিহীন লাশ অটোচালক রফিকের, গ্রেপ্তার ৩
নিহত অটোচালক রফিক। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে রফিক মিয়া (২৭) নামের এক যুবকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের তিন দিন পার হলেও মাথা উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত রফিকের তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন জেলার ঘিওর উপজেলার রাথরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজিব হোসেন (২৫)।

আজ শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে পিবিআইয়ের মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইজিবাইকের জন্য রফিককে গলা কেটে হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন হত্যাকারীরা। পরে তাঁরা ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেন।

মামলার এজাহার এবং সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ইজিবাইক চালাতেন। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রফিক। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরের দিন বুধবার দুপুরে পাছবারইল গ্রামের এক ব্যক্তি বাড়ির পাশে কালীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে গেলে নদীর তীরে ওই যুবকের একটি পা দেখতে পান। যুবকের শরীরের অন্য অংশ মাটির নিচে ছিল। ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে মাথাবিহীন ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। এরপর স্বজনেরা রফিকের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে পিবিআই মানিকগঞ্জ কার্যালয় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

আজ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। রফিককে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে বিক্রি করবেন বলে পরিকল্পনা করেন রিপন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকে করে রফিককে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন, তাঁর সহযোগী সজিব ও আরমান। এরপর আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন রিপন দা দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত ও সজিব দুই পা ধরে রাখেন।

অটোচালক রফিক হত্যায় জড়িত ৩ বন্ধু। ছবি: আজকের পত্রিকা
অটোচালক রফিক হত্যায় জড়িত ৩ বন্ধু। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরে হত্যাকারীরা মাথা এবং শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। এ কারণে রফিকের পেট কেটে নদীর তীরে মাটিচাপা দেন। পরের দিন বুধবার ভোরে রফিকের ইজিবাইকটি নিয়ে রিপন সাভারে চলে যান। ওই দিনই বিকেলে নদীর তীর থেকে রফিকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

জয়িতা শিল্পী আরও বলেন, নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। মাথা উদ্ধার না হওয়ায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে পাকিস্তানি ব্যাংক আলফালাহ

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজনই পোশাকশ্রমিক, বাড়ি গাইবান্ধা

যুক্তরাজ্যের একটি বন্য প্রাণী পার্কে পুরো নেকড়ে দলকে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত