Ajker Patrika

শরতেও জমেছে নৌকার হাট

  • প্রতি বুধবার ঘিওর এবং শনিবার ঝিটকা হাটে নৌকা কেনাবেচা হয়
  • শরতের শুরুতে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে
  • ছোট নৌকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। উপকরণের দাম বাড়ায় নৌকা তৈরির খরচ বৃদ্ধি
আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)  
শরতেও জমেছে নৌকার হাট
ক্রেতাবিক্রেতায় সরগরম নৌকার হাট। গত বুধবার মানিকগঞ্জের ঘিওরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কৃষিপণ্য ও গবাদিপশুর খাবার পরিবহন, মাছ ধরা কিংবা হাটবাজারে যাতায়াত করতে অনেক এলাকার মানুষের কাছে এখনো কাঠের নৌকাই ভরসা। নদ-নদীতে পানি বাড়ায় শরতেও জমে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর ও হরিরামপুরের ঝিটকার শতবর্ষী নৌকার হাট।

ঘিওরের হাট বসে প্রতি বুধবার। স্থানীয়দের ভাষ্য, শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এ হাট। প্রতি বুধবার হাটে ৬-৭ লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ছোট ডিঙি নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে কৃষিপণ্য, পশুখাদ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের জন্য তৈরি হয় বড় নৌকাও। পানির গভীরতা, ধারণক্ষমতা ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী বদলে যায় নৌকার আকার ও কাঠামো।

গত বুধবার ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা কানাই লাল সূত্রধর বলেন, ফের পানি বাড়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে। ছোট নৌকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঠ, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরির খরচও আগের তুলনায় বেশি।

নৌকা কিনতে আসা আশাপুর গ্রামের কৃষক জমসের আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাঁর এলাকায় পানি বাড়ায় নৌকার প্রয়োজন হয়েছে। কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও এদিক-ওদিক যাতায়াতের জন্য একটি নৌকা দরকার ছিল। হাটে বিভিন্ন দামের নৌকা থাকায় পছন্দমতো কেনার সুযোগ রয়েছে।

নৌকার কারিগর অখিল সূত্রধর বলেন, নৌকা তৈরিতে ব্যবহার হয় রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বল ও মেহগনিসহ বিভিন্ন কাঠ। সঙ্গে লাগে লোহা, পেরেক, তারকাঁটা ও রং। কাঠ, উপকরণ ও দক্ষ শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় নৌকা তৈরির খরচও বেড়েছে। আরেক কারিগর পরিতোষ বলেন, আগের তুলনায় কাজ কমেছে। পানি বাড়লে নৌকার চাহিদা বাড়ে, তখন কাজও বাড়ে। এই মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভর করে অনেক কারিগরের সংসার।

একই চিত্র হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা নৌকার হাটে। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে প্রতি শনিবার হাট বসে বলে স্থানীয়দের দাবি। একসময় এখানে কয়েক শ নৌকা উঠলেও এখন প্রতি হাটে আসে ৬০-৭০ টি। তবে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে ক্রেতার ভিড় বাড়ে।

নৌকার পাশাপাশি হাটে বিক্রি হয় বইঠা। বইঠা বিক্রেতা অজয় সূত্রধর বলেন, নৌকা বিক্রি বাড়লে বইঠার চাহিদাও বাড়ে। ফলে শুধু নৌকা নির্মাতা নন, কাঠ ব্যবসায়ী, করাতকল শ্রমিক, বইঠা নির্মাতা, কামার, রং বিক্রেতা, পরিবহনশ্রমিক, দিনমজুরসহ বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই হাট।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, ঘিওরের নৌকার হাটটি শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। প্রতি বুধবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা আসে এবং ক্রেতারাও আসেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। নদী ও চরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই হাট স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত