Ajker Patrika

সিংগাইরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলছে টায়ার পোড়ানোর কারখানা, নেই পরিবেশ ছাড়পত্র

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিংগাইরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলছে টায়ার পোড়ানোর কারখানা, নেই পরিবেশ ছাড়পত্র
সিংগাইরের ধল্লা মধ্যপাড়া এলাকায় ‘গ্রীন এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ’। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টায়ার পোড়ানোর একটি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা মধ্যপাড়া এলাকায় ‘গ্রিন এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করে ‘কিং অয়েল’ নামে বাজারজাত করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানার ভেতরে দুটি বড় চুল্লিতে প্রতিদিন শত শত কেজি পরিত্যক্ত টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। চিমনি দিয়ে নির্গত ঘনকালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।

এলাকাবাসীর দাবি, টায়ার পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করায় অতিরিক্ত ধোঁয়া ও তাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে।

কারখানার ভেতরে দুটি বড় চুল্লিতে প্রতিদিন শত শত কেজি পরিত্যক্ত টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
কারখানার ভেতরে দুটি বড় চুল্লিতে প্রতিদিন শত শত কেজি পরিত্যক্ত টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রাত ৯টার পর পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঘুমানো যায় না। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যার প্রকোপ বেড়েছে।’

একই এলাকার বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, ‘কারখানার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা আতঙ্কে আছি।’

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধোঁয়ার কারণে জমির ফসল আগের মতো হচ্ছে না। গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও কয়েকজন সাংবাদিক আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

পরিবেশবাদী আবু সায়েম বলেন, কারখানাটির কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সঠিক নয়। উৎপাদনের সময় নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দূষণ বাড়ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. তানজিল জানান, উত্তরবঙ্গের মোজাফফর হোসেন প্রায় এক বছর ধরে কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এখনো নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া এই ধরনের কারখানা চলতে পারে না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে যেভাবে খুঁজে পেলেন বৃষ্টির মরদেহ

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২

টিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ইউনূস সরকার, এরপরই দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত