Ajker Patrika

মাদারীপুর-১ আসন: বড় ‘ফ্যাক্টর’ আ.লীগের সমর্থকেরা

  • বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশে উপজেলা আ.লীগের নেতারা।
  • বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিন ভাগে বিভক্ত।
  • শুধু দলীয় প্রতীক নয়, ‘ব্যক্তি ইমেজও’ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইমতিয়াজ আহমেদ, শিবচর (মাদারীপুর) 
মাদারীপুর-১ আসন: বড় ‘ফ্যাক্টর’ আ.লীগের সমর্থকেরা

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের রাজনীতির চিত্র বদলাতে শুরু করে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও মাঠে নামে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে দেখা যায়। তবে ভোটের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। ভোটারদের মতে, এই আসনে ভোটে বড় ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা। তাঁরা যেদিকে ঝুঁকবেন, জয়ের সম্ভাবনা তাঁরই। আর এটা মাথায় রেখেই প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরাও।

গত ১৯৯১ সাল থেকে এই আসন বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। আর ১৯৯৬ সাল থেকে আসনের সংসদ সদস্য হয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের নূর-ই আলম চৌধুরী। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পর্যন্ত ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। বিএনপি বা অন্য কোনো দলের কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো ছিল না। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হঠাৎ চিত্র বদলে যায়। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলগুলোর তৎপরতা আরও বাড়ে।

এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন চৌধুরী নাদিরা আক্তার। দলটি থেকে আছেন দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী। তাঁরা হলেন জাহাজ প্রতীকের কামাল জামান মোল্লা ও ফুটবল প্রতীকের সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। এ ছাড়া মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে আকরাম হুসাইন, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আবদুল আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান।

বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপিতে কোন্দল ছিল। একাধিক নেতার বলয়ে যুক্ত ছিলেন কর্মীরা। এই কোন্দল ৫ আগস্টের পরও নিরসন হয়নি। বিএনপির সমর্থকেরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার বলেন, ‘শিবচরে বিএনপিকে বিজয়ী করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে শিবচরে বিএনপি জয় লাভ করবে।’

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শুধু দলীয় প্রতীক নয়, ‘ব্যক্তি ইমেজও’ গুরুত্বপূর্ণ হবে এবারের ভোটে। আব্দুল হালিম নামে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘যে প্রার্থী সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে, যার কাছে সহজেই সাধারণ মানুষ পৌঁছাতে পারবে, আমরা সে রকম একজন প্রার্থীকেই চাই।’

এদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান নুরুদ্দিন মোল্লার নির্বাচনী প্রচারে শেষ মুহূর্তে এসে যুক্ত হয়েছেন তাঁর বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণার পালে লেগেছে জোর হাওয়া।

কামাল জামান নুরুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমাকে বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েও ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। শিবচর উপজেলার জনগণ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চায়। তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীকে নির্বাচন করছি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে এই আসনটি বিএনপিকেই উপহার দেব।’

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশে আওয়ামী লীগ নেতারা যাওয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক আওয়ামী লীগের কর্মী জানান, প্রথম দিকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা হঠাৎ করেই স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর প্রচারে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। এতে তাঁরা বিভ্রান্ত।

দলটির একাধিক নেতা-কর্মীর অভিমত, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা যাঁকে ভোট দেবেন, তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার

‘সব খারিজ হবে, তুই খালি টাকা পাঠাবি’, ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

ইরানে হামলা হতে পারে আজই, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়াল ভারত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত