Ajker Patrika

জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু

সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রোখার প্রত্যয় কবিদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রোখার প্রত্যয় কবিদের
জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম দিন গতকাল যৌথ কণ্ঠে একুশের গান পরিবেশনা। জাতীয় কবিতা পরিষদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই উৎসবের আয়োজন করে। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা’ স্লোগানে গতকাল রোববার শুরু হলো জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত দুই দিনের জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬। এটি এই উৎসবের ৩৮তম আসর। সকালে পরিষদের নেতারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ফুল দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে উৎসবের সূচনা করেন।

কবি ও সংস্কৃতিকর্মীরা শুরুতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে একুশের ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দেন। পরে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কবিতা পরিষদের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপরে পরিবেশিত হয় একুশের গান ও উৎসব সংগীত।

প্রধান অতিথি সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘যেকোনো জাতির জন্য সামনে যাওয়ার রাস্তা দেখায় পেছনের রাস্তা। পেছনের রাস্তা যদি খেয়াল রাখি, আমরা কোথা থেকে এলাম, কেন আজকে আমরা চব্বিশের এ রকম একটা বড় গণ-অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হলাম। এটা যদি খেয়াল রাখি, এর পেছনের ১৬ বছরে কী ছিল, তাহলে আমরা সামনের রাস্তা খুঁজে পাব যে সামনে কী কী করা যাবে না।’

ফারুকী জুলাই অভ্যুত্থানকে একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা অভিহিত করে বলেন, ‘যেকোনো জাতির ইতিহাসের নানান রকমের ব্যাখ্যা থাকে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান একটা সাংস্কৃতিক ঘটনা। এটা অবশ্যই একটা রাজনৈতিক ঘটনা ছিল। কিন্তু এর ভেতরে যে ক্ষোভ ছিল, তা ছিল সাংস্কৃতিক।’

উৎসবের উদ্বোধক জুলাইয়ের শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মানুষের মূলমন্ত্র হোক মানবতা। শহীদ মীর মুগ্ধ চব্বিশের ১৮ জুলাই তার বন্ধুদের নিয়ে আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে বাচ্চারা শহীদ হয়।...কবিতা হলো মানুষের মনের কথা। এই উৎসবে আহ্বান থাকল, আগামী দিনে আর যেন কারও মায়ের বুক খালি না হয়।’

সভাপতির বক্তব্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নেতিবাচক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঘটনায় উদ্বেগ জানান কবি মোহন রায়হান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এমন এক অপশক্তির উত্থান ঘটেছে, যারা হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতি, চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য এবং সুফি সাহিত্যকে অস্বীকার করে। তারা জারি, সারি, ভাটিয়ালি গান এবং বাউল সংস্কৃতির মতো লোকজ ঐতিহ্যকেও মানতে চায় না। এই দক্ষিণপন্থী উগ্র মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করতে এবং হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে জাতীয় কবিতা পরিষদ আবারও রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।’

অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি শ্যামল জাকারিয়া। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি মানব সুরত। স্বাগত ভাষণ দেন কবি এ বি এম সোহেল রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদকের ভাষণ দেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। কবি নূরুন্নবী সোহেলের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উদ্বোধনী আয়োজন।

দুপুরের পরে শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কবিরা তাঁদের কবিতা পাঠ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন। দ্বিতীয় দিন আজকেও থাকছে কবিতা পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার

‘সব খারিজ হবে, তুই খালি টাকা পাঠাবি’, ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

ইরানে হামলা হতে পারে আজই, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়াল ভারত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত