Ajker Patrika

মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার আসামি ইউসুফ গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার আসামি ইউসুফ গ্রেপ্তার
ইউসুফ খান জাহিদ। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে মানব পাচার মামলার আসামি ইউসুফ খান জাহিদকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে আদালাতে তোলা হলে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ এলিয়াম হোসেন আসামি জাহিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ঢাকার মতিঝিলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৯টি ইয়াবাসহ মানব পাচারের গডফাদারখ্যাত ইউসুফ খান জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় মাদারীপুরে।

গ্রেপ্তার ইউসুফ খান (৪৫) মাদারীপুর সদর উপজেলার চাছার গ্রামের সাবু খানের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রূপরাইয়া গ্রামের মোস্তফা ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারী পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি যেতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। দালালেরা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। পরে বাধ্য হয়ে রাকিবের মা সামচুন নাহার ১০ মে মাদারীপুরে মানব পাচারের গডফাদার ইউসুফ খান জাহিদসহ ১০ জনের নামে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলা রেকর্ড হয়।

এদিকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দালাল চক্রের মাধ্যমে ইতালি পাড়ি জমাতে গিয়ে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটক হন মাদারীপুর সদর উপজেলার চাছার গ্রামের ফজল মুন্সির ছেলে সুমন মুন্সি, শহীদ মুন্সির ছেলে রাজন, সুলতান মোল্লার ছেলে রাতুল মোল্লা, চরখাগদী গ্রামের মোস্তফা ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারী, শিবচর উপজেলার রাজারচর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, পূর্ব সন্ন্যাসীর চর গ্রামের সামচুদ্দিন শিকদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম ও ডাসার উপজেলার খান্দুলী গ্রামের ফয়সাল হাসান। মুক্তিপণের কোটি কোটি টাকা পরিবার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মাফিয়ারা। এরপরও এই আট যুবকের মুক্তি মেলেনি। খোঁজ নেই ৪২ দিন ধরে। যুবকদের পরিবারে এখনো হতাশা। এই মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দালাল ইউসুফ খান।

নিখোঁজ রাকিবের মা সামচুন নাহার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন কোথায় আছে তা জানি না। আমার থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউসুফ খান ও তাঁর লোকজন। আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই। পাশাপাশি আমার সব টাকা ফেরত চাই।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন খান বলেন, শিগগির আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে। এখন রিমান্ড মঞ্জুর করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদারীপুর মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শরীফ মোহাম্মদ সাইফুল কবীর বলেন, নিখোঁজ আট যুবকের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁদের পরিবারে এখন হতাশা কাজ করছে। এই ঘটনায় দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীরা যাতে ছাড়া না পায়, সেই ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত