Ajker Patrika

বাক্প্রতিবন্ধীর জমি দখলে চক্রান্ত, সাক্ষী জানেন না মামলার বিষয়ে

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
বাক্প্রতিবন্ধীর জমি দখলে চক্রান্ত, সাক্ষী জানেন না মামলার বিষয়ে
জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী পরিবারের। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের পানবাড়ী এলাকায় মফিজুল ইসলাম নামের এক বাক্প্রতিবন্ধীর পৈতৃক আবাদি জমি দখলের চেষ্টা ও ভুয়া সাক্ষী দিয়ে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ফরমত আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় তহশিল কার্যালয়ের অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে জমির ডিপি বইয়ের দাগ নম্বর কাটছাঁট করে নিজ নামে রেকর্ড করিয়েছেন ফরমত আলী। জমি রক্ষায় কোনো উপায় না পেয়ে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হকের কাছ থেকে আট শতক জমি নিয়মতান্ত্রিক দলিলের মাধ্যমে কেনেন মফিজুল ইসলামের বাবা মমতাজ আলী। মমতাজ আলীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে মফিজুল ওই জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ফরমত আলী ওই জমির ১৩২০ নম্বর খতিয়ানের ৭৪২ নম্বর দাগটি নিজের দাবি করে মফিজুলকে চাষাবাদে বাধা দেন। এতে জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগে ফরমতের করা ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলায় সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জমিটির প্রকৃত মালিক ও ভোগদখলকারী হিসেবে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুল ইসলামের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

পরে ফরমত আলী সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও সম্প্রতি তিনি পুনরায় নতুন মামলা করেন।

মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় অন্য ব্যক্তিদেরও ওই মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হন।

মামলায় তহিদুল ইসলাম নামের এক ভ্যানচালককে সাক্ষী করা হলেও তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। সম্পূর্ণ অজান্তে তাঁকে মিথ্যা মামলার সাক্ষী করায় তহিদুল পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে ভুয়া ঘটনায় সাক্ষী করা হয়েছে, তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হক নিজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমার ভাই ফরমত এলাকায় একের পর এক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সে একজন বোবা ও গরিব মানুষের জমি অন্যায়ভাবে দখলের চক্রান্ত করছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফরমত আলী বলেন, ‘জমির বৈধ রেকর্ড আমার নামে রয়েছে। মফিজুল আমার জমি দখল করে রেখেছিল বলেই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। তহিদুলকে জানিয়েই সাক্ষী করা হয়েছিল, সে এখন মিথ্যা বলছে।’

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, না জানিয়ে মামলায় সাক্ষী করার বিষয়ে তহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত