Ajker Patrika

বন্যা-ভূমিধস: সহায়তা নয় নেপাল চায় ক্ষতিপূরণ

  • নেপালের দাবি, জলবায়ু ক্ষতিপূরণ মেটানোর দায় সবচেয়ে বেশি চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের
  • দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরে মৃত্যু অন্তত ১ হাজার ১৩০ জনের। আরও বাড়তে পারে
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বন্যা-ভূমিধস: সহায়তা নয় নেপাল চায় ক্ষতিপূরণ
ছবি: এএফপি

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এই দুর্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর প্রভাব ছিল। তাই নেপাল এখন চাইছে, বিশ্বের শীর্ষ তিন কার্বন নিঃসরণকারী দেশ—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—যেন এই দুর্যোগের জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

নেপালের সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টিভিতে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন খানাল। তাঁর ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ গত মঙ্গলবার কাঠমান্ডু পোস্ট ও গতকাল বুধবার এনডিটিভি প্রকাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দেওয়া অর্থ সহায়তা হিসেবে নয়, বরং নৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

খানাল বলেছেন, তিনি দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন। এই ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি কোনো সাধারণ বন্যা নয়। স্রোতের উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে জানা গেছে। স্রোতের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। নুয়াকোট, রাসুয়া ও ঢাড়িং অঞ্চলে অন্তত ১০টি পৌরসভার ৩০ থেকে ৩২টি ওয়ার্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বরফ গলছে এবং এসব ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। অথচ গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের দায় নগণ্য। অথচ আমরা সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাচ্ছি।

খানাল জানান, জলবায়ু-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়টি দৃঢ়ভাবে উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে কাঠমান্ডু। এ ছাড়া, শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে থেকে নেপালের মতো ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, (জলবায়ুর ক্ষেত্রে) ‘সহায়তার বদলে ন্যায় ও ক্ষতিপূরণের ইস্যু মাথায় রেখে আমাদের কূটনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন হবে। বিশ্বের শীর্ষ তিন গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ, যথাক্রমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব হচ্ছে নেপালের মতো দেশগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা মেটানো।’ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছে নেপালের অর্থ মন্ত্রণালয়।

খানাল সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা কেবল নেপালের জন্য না, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ওকালতি করছি। হিমালয়ের গ্লেসিয়ার যদি গলে যায়, তবে এ অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন সরাসরি হুমকিতে পড়বে।’

এদিকে, দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর, নেপাল অংশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ জনে। নিখোঁজ অন্তত ৩ হাজার ৯১৬ জন। দেশটির দুর্যোগসংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, তিব্বত অংশে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন এবং নিখোঁজ অন্তত ৫৪৬। সব মিলিয়ে নিহত অন্তত ১ হাজার ১৩০ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আশা হারাচ্ছেন স্বজনেরা: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এখনো আশা ছাড়ছেন না। নিখোঁজদের কেউ কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। তবে নিখোঁজ স্বজনদের জন্য প্রতীকী শেষকৃত্য করেছেন নেপালের অনেক পরিবার। হিন্দু রীতি অনুযায়ী খড় দিয়ে তৈরি প্রতীকী মরদেহে আগুন দিয়ে এই শেষকৃত্য করা হচ্ছে। স্বামীর শেষকৃত্যে দোলমা নেওয়ার তামাং বলেন, ‘তার আত্মাকে মুক্তি দিতে আমাদের এটা করতে হয়েছে। সে যেখানে থাকুক, শান্তিতে ও আনন্দে থাকুক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত