Ajker Patrika

বিপৎসীমার নিচে তিস্তা, বন্যার উন্নতি লালমনিরহাটে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৪১
বিপৎসীমার নিচে তিস্তা, বন্যার উন্নতি লালমনিরহাটে
আজ দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার থেকে ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা দুই দিনের অতি ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তা কমে যায়। এতে তিস্তার বাঁ তীরবর্তী জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমা (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) থেকে ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সোমবার রাত ১০টার দিকে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি তলিয়ে যায়। কয়েক শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করে। সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও কমে যায়। দুপুর ১২টায় পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। এতে বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।

তিস্তাপাড়ের গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আবজাল হোসেন বলেন, ‘গত রাতে পানি বেড়ে চরাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তবে সকাল থেকেই পানি কমতে শুরু করেছে। অনেক বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় আসবাব ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদীশাসনের কাজ করা হয়েছে। এতে নদীর মূল স্রোতোধারা সরে গেছে। ফলে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে তেমন প্লাবন সৃষ্টি হয়নি। একই ধরনের নদীশাসনের কাজ আরও ১০ কিলোমিটার এলাকায় করা প্রয়োজন। তা বাস্তবায়ন করা গেলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার আরও অনেক ওপরে প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে প্লাবনের আশঙ্কা কমে যাবে।’

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, ‘রাতে তিস্তা নদীর পানি বাড়লেও সকালে তা কমে যায়। ফলে দুপুরের মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে আগেই ত্রাণ হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে ত্রাণ বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত