Ajker Patrika

পদ্মার চরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ২৫

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ১১
পদ্মার চরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ২৫
পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা, অবৈধ দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আবারও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে চার জেলার পুলিশ। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরাঞ্চলে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে কেবল কুষ্টিয়া জেলা পুলিশেরই প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নেন এবং বিভিন্ন মামলার ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ অভিযান শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। অভিযানের সময় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের আগমুহূর্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
অভিযানের আগমুহূর্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ চালিয়ে আসছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, জমির ফসল লুট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ অভিযান চালানো হয়।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরেও এসব চরাঞ্চলে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবারও এই সমন্বিত অভিযান শুরু করল।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আজ ভোর থেকে এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আজ দুপুরে অভিযান শেষ হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফয়সাল মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত করা যাবে। এই অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত