Ajker Patrika

কুষ্টিয়ায় রাইস মিলের দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন, পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫৪
কুষ্টিয়ায় রাইস মিলের দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন, পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
খাজানগরের একটি রাইস মিল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ৪০০ অটো ও হাসকিং রাইস মিলের দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। মিল থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, উড়ন্ত ছাই এবং দূষিত বর্জ্যে পরিবেশের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ সেচব্যবস্থা জিকে ক্যানেল। পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর তদারকির অভাব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দীর্ঘদিনের নজরদারির ঘাটতিতে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাইস মিলের দূষণ রোধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে সদস্যসচিব করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আজ বুধবার সকালে সেই কমিটি খাজানগরের পাঁচটি রাইস মিল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে সব সময়ই আশপাশের এলাকা দূষিত থাকে। খাবারের প্লেট, টেবিল, উঠান, এমনকি শোবার ঘরেও ছাইয়ের আস্তরণ পড়ে। সামান্য বাতাসেই চোখ-মুখে ছাইয়ের কণা ঢুকে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এলাকাবাসী।

খাজানগরের বাসিন্দা নুর ইসলাম ব্যাপারী জানান, দীর্ঘদিনের এ দূষণে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, কাশি, চোখে জ্বালাপোড়া ও চুলকানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড় ও খাবার পর্যন্ত ছাইয়ে ঢেকে যায়। বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত কমিটির সদস্যরা আজ পরিদর্শনে দেখতে পান, সনি এগ্রো ফুড, জাহিদ অটো রাইস মিল, শামীম এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস, মা-বাবার দোয়া ও সাজিম রাইস মিলে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা নেই এবং বর্জ্য সরাসরি খাল-জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। সনি এগ্রো ও জাহিদ অটো রাইস মিলে ছাই নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তিও নেই। স্থানীয়রা কমিটির কাছে মিলগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন, বর্জ্য পানি পরিশোধন নিশ্চিত এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, আমরা দূষণমুক্ত খাজানগর চাই। শিল্পের কার্যক্রম চলমান থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও দূর করতে হবে। এ বিষয়ে মিল মালিকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য জেলা পাউবোর সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম বলেন, আজকের পরিদর্শনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত ও আইন অনুযায়ী অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, যেসব রাইস মিলে পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই তাদের সংশোধনের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়া হবে। সংশোধন না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল্-ওয়াজিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, কমিটির পরিদর্শনে ছাই ব্যবস্থাপনা, তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ও সড়কের অপব্যবহারসহ বেশ কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিগগির লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হবে। সংশোধন না হলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত