Ajker Patrika

দিনভর উত্তেজনার পর রাতে ফুলবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশি শিশুকে গ্রহণ করল বিজিবি

ফুলবাড়ী (প্রতিনিধি) কুড়িগ্রাম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১২: ২৩
দিনভর উত্তেজনার পর রাতে ফুলবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশি শিশুকে গ্রহণ করল বিজিবি
ভুক্তভোগী শিশু। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশ ইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে রাতে গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩ এস-এর কাছে খায়রুল ইসলামের বাড়ির পেছনের বাঁশবাগানে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে গ্রহণ করা হয়।

পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। তবে বিএসএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে কে ছিলেন, তা জানায়নি বিজিবি। শিশুটি মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মধ্য কাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে।

দক্ষিণ অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শনিবার বেলা ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর সাবপিলার ৩-এর কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশ ইন-পুশব্যাক উত্তেজনা।

শেষ বিকেলের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পুরো এলাকায় খবরাখবর ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শিশুটির মা তাঁর সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন বিএসএফের হাতে এক কন্যাশিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন ওই শিশুটি তাঁরই। বিষয়টি বিজিবিকে জানালে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, তাঁর শিশু মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকাল ১০টায় স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবারের বায়না ধরে। কিন্তু তিনি খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। দুপুর ১২টায় খাবারের জন্য বাড়ি ফিরলে তার বাবা স্কুল থেকে বাড়ি আসার কারণে রেগে গিয়ে স্কুল শেষ করে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে ওই সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিএসএফ তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিজিবি পুশ ইন ভেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে শিশুটির মা স্কুলে গিয়ে দেখেন তাঁর মেয়ে স্কুলে নাই। তিনি এদিক-ওদিক মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি জানতে পারেন তাঁর মেয়ে সীমান্তে গেছে এবং বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে।

শিশুটি বাংলাদেশি এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি-বিএসএফের ১৫ মিনিটের বৈঠকের পর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিজিবি গ্রহণ করে। পরে চেয়ারম্যান তার মা-বাবার হাতে শিশুটিকে তুলে দেন। এ সময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত