Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জ: হাওরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

  • হাওরবেষ্টিত জেলাটিতে ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ হাজার, ১ জনের মৃত্যু।
  • সরকারি ১৫ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮০ রোগী, এক দিনেই ভর্তি ১০৭ জন।
সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ: হাওরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলায় সংক্রামক রোগ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব চলছে। চলতি বছরের ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৩ জন রোগী। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলার ১৫টি হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৮০ জন। এর মধ্যে ১০৭ রোগী ভর্তি হয়েছে এক দিনে।

এদিকে ডায়রিয়ার পাশাপাশি আরও দুই সংক্রামক ব্যাধি ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। গতকাল সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৮১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ছাড়া চলতি বছর নিশ্চিত হওয়া ২১৫ জন হামের রোগীর মধ্যে একজন এবং সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮৮৯ জনের মধ্যে একজন মারা গেছে।

বর্তমানে জেলার সরকারি-বেসরকারি ১৬টি হাসপাতালে ৩৮০ জন সংক্রামক ব্যাধির রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৩৩ জন, সন্দেহভাজন হামের রোগী ৬৭ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৮০ জন।

জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে। সেখানে বর্তমানে ৩২ জন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু ও ২৬ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী খাদিজা বেগমের স্বামী সাত্তার বলেন, ‘বিভিন্ন ওষুধ বাইরে থেকে কেনা লাগে। তবে স্যালাইনের কোনো সংকট পাইনি।’

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডায়রিয়া মূলত রোটা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ডায়রিয়া রোধে টিকা দেওয়া হচ্ছে। হোসেনপুর, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলাতে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু বা হামের চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কিট এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত