Ajker Patrika

রমজানে বাজারে আগুন, গাংনীতে ৯০ টাকা কেজি তরমুজ

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
রমজানে বাজারে আগুন, গাংনীতে ৯০ টাকা কেজি তরমুজ
গতকাল গাংনী বাজার থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারগুলোতে তরমুজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সুযোগ বুঝে কিছু ব্যবসায়ী তরমুজের দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখনো শীত পুরোপুরি শেষ হয়নি। চলছে রমজান মাস। এর মধ্যেই তরমুজের দাম অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ালেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা দেখা যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এই তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।

গাংনী বাজারে তরমুজ কিনতে আসা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘তরমুজের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি নিচ্ছে ৯০ টাকা করে। প্রশাসন করেটা কী! বাজারগুলো বেশি করে মনিটরিং করা দরকার, যাতে সিন্ডিকেট তৈরি না হয়। অনেকের সাধ থাকলেও সাধ্য হচ্ছে না তরমুজ কিনে খাওয়ার।’

গাংনী বাজারে তরমুজ কিনতে আসা নুরুজ্জামান বলেন, ‘তরমুজ কিনতে গিয়ে দাম শুনেই ফিরে এসেছি। এত টাকা দিয়ে তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। যেই আয়, তাতে বাজার করতে গিয়েই সব শেষ। দাম কমলে খাব, না হলে খাব না।’

মো. মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘তরমুজ ৯০ টাকা কেজি। এত দাম হবে ভাবতেও পারিনি। ইফতারের সময় তরমুজটা খেতে ভালো লাগে, তাই বেশি দাম হওয়ায় অর্ধেকটা কিনলাম।’

বামন্দী বাজারে তরমুজ কিনতে আসা আকবর আলী বলেন, ‘এখনো শীত পড়ছে। আর শীতেও যেন তরমুজের বাজারে আগুন লেগেছে। সুযোগ বুঝে তরমুজের দাম নিচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। প্রশাসনের উচিত প্রতিটি বাজারে মনিটরিং করা। আর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

বামন্দী বাজারের খুচরা তরমুজ ব্যবসায়ী ছল্টু হোসেন বলেন, ‘তরমুজ অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই। আমি ৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছি।’

গাংনী বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, ‘অন্য জেলা থেকে আমাদের তরমুজ কিনে আনতে হয়। আমাদের বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয়; অথচ এই চাপ আমাদের ওপর পড়ে। প্রশাসন জরিমানাটি যদি মূল জায়গায় করে, তাহলে সব জায়গায় দাম কমতে থাকবে।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, ‘এখন বাজারে আগাম তরমুজ উঠেছে, তাই দাম বেশি। কিছুদিন পর এই মৌসুমের যে তরমুজ রয়েছে, তা বাজারে এলে দাম আশা করি কমে যাবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিং করছি। বাজার মনিটরিং আরও বৃদ্ধি করব। আর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সিন্ডিকেট ভাঙার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত