Ajker Patrika

রাব্বি হত্যা: বিচার আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়েছে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
রাব্বি হত্যা: বিচার আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়েছে পরিবার
ওমর ফারুখ রাব্বি। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ফুলবাড়ী গেট এলাকায় টিটিসির ছাত্র ওমর ফারুখ রাব্বি হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরোলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছে পরিবার। তারা বলছে, এই হত্যার বিচার তারা আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার রাব্বি হত্যা মামলার নথি দৌলতপুর থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা কার্তিককুল খুঁটির ঘাট এলাকার নুরুল ইসলাম কাস্টমের ঘেরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে রাব্বির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাব্বি খানজাহান আলী থানার জাব্দিপুর এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম শেখের ছেলে।

রাব্বির ছোট বোন ইশরাত জাহান মিম বলেন, ‘আমার ভাই টিটিসির সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। জীবনের ছোটখাটো ব্যক্তিগত বিষয় একটি ডায়েরিতে লিখে রাখত। সেই ডায়েরি থেকে জানতে পেরেছি, জাব্দিপুর ৬ নম্বর ইউনিয়ন মেম্বর গোলাম কিবরিয়ার ভাইয়ের ছেলে সামদ হত্যার কয়েক দিন আগে রাব্বিকে হত্যার হুমকি দেয়। এর পর থেকে সে রাতে বাড়িতে থাকত না। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসত। সে ব্যক্তিগত কোনো কিছু বাড়ির কারও সঙ্গে শেয়ার করত না।’ মিম আরও বলেন, ‘২২ মে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাব্বি। এলাকার দিঘির পূর্ব পাড় জিয়া কলেজের পাশে আশিক, মোহন ও সাদ্দামের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম, আশিকের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অপর একজনের সঙ্গে কথা বলে রাব্বি।’

মিম বলেন, ‘এরপর রাব্বি মহেশ্বরপাশা খানা বাড়ি এলাকার হোয়াইট হাউসের সামনে একটি রিকশায় চলে যায়। তখন তিনজন যুবকের সঙ্গে কথা বলে আমার ভাই রাব্বি। যাদের এর আগে এ এলাকায় কোনো দিন দেখা যায়নি বলে রাব্বিকে বহনকারী রিকশাচালকের ভাষ্য। ওই দিন থেকে আমার ভাই নিখোঁজ আর পরের দিন দুপুর ২টার দিকে ভাইয়ের লাশ কার্তিককুলের খুঁটির ঘাট এলাকার একটি ঘেরের ভেতর থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।’

মিম আরও বলেন, ‘আমার ভাই হত্যার বিচার কোনো দিন হবে না। কারণ, আমরা গরিব মানুষ। মামলা পরিচালনার সামর্থ্য নেই। তাই ভাই হত্যার বিচার আল্লাহর কাছে সঁপে দিলাম।’

মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান আরমানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল রাব্বির। পরে সে চরমপন্থী নেতা হুমা বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়। এরপর আরমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। হুমা অথবা আরমান বাহিনীর যে কেউ একজন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের একজন গ্রেপ্তার হলে এ খুনের বিষয়ে সবকিছু জানা যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত