Ajker Patrika

খুমেক হাসপাতাল: অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার আটকে গেছে

  • তদন্ত প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
  • বন্ধ রয়েছে জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং চোখের অপারেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
খুমেক হাসপাতাল: অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার আটকে গেছে
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

গত বুধবার সকালে ঘাড়ে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল জালাল হোসেনের। দুই মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করে আশা ছিল অপারেশন করে বাড়িতে গিয়ে ঈদ পালন করবেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নির্ধারিত দিনে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়নি। ঠিক কবে সিরিয়াল পাবেন, তা-ও অনিশ্চিত।

বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে জালালের মতো এমন শতাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার আটকে আছে। আগুনে অক্সিজেন লাইন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং চোখের অপারেশন।

এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউকে দায়ী না করে দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে আগুনের ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে অপারেশনের অপেক্ষায় ৩৫ রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন ভর্তি রয়েছে প্রায় তিন মাস ধরে। যাদের গত বুধবার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিয়াজ আহমেদ হাওলাদার বলেন, ‘আমরা বুধবার অস্ত্রোপচার করতে পারিনি। অন্তত ১০ জন রোগী অপেক্ষায় ছিলেন। বাকিদের পরের সপ্তাহে করা হতো, কিন্তু এখন সিরিয়াল পাওয়া সাপেক্ষে করতে হবে। এরপর ঈদের ছুটির কারণে একটা ভোগান্তি তৈরি হলো রোগীদের।’

একই অবস্থা সার্জারি বিভাগের। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৯-১০ এবং ১১-১২ ওয়ার্ডের জেনারেল ও ইমার্জেন্সি মিলে গত দুই দিনে ৫০টি অপারেশন মিস হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেনারেল ওটিতে মাত্র ২টি অপারেশন করতে পেরেছে। পোস্ট অপারেটিভ বেড না থাকায় মাত্র ২টি অপারেশন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. কনক হোসেন বলেন, ‘আমরা অপারেশন করতে পারছি না। প্রতিদিন সার্জারির দুই ওয়ার্ডে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৪০টি অপারেশন করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার মাত্র ২টি করতে পেরেছি। জরুরি কিছু রোগী সদর হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এ ছাড়া ইউরোলজি গাইনি, শিশু সার্জারি, নাক কান গলা ও চোখ মিলে শতাধিক রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল বুধ ও বৃহস্পতিবার। কিন্তু সব মিলে ছয়জন রোগীর অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অক্সিজেন লাইন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

২৪ ঘণ্টায় তদন্ত প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে তদন্ত কমিটি কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল ভবনটি অনেক পুরোনো, প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। তাই শর্টসার্কিট থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। মন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত