
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় গত তিন মাসে বড়সড় অন্তত পাঁচটি পাহাড় কেটে মাটি লুট করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য। আর লুট করা পাহাড়ের মাটি বালুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে। এই সময়ে প্রশাসনের পৃথক অভিযানে চারটি মামলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি নিয়মিত মামলাও করা হয়েছে। তবু থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু-নিচু টিলা (পাহাড়) আর সমতলে ঘেরা সবুজ জনপদ মানিকছড়ি উপজেলার এয়াতলংপাড়া, মহামুনি, ডাইনছড়ি, ধর্মঘর, মলঙ্গীপাড়া, গোদাতলী, চেঙ্গুছড়া, বড়বিল, তুলাবিল, কালাপানি, বাটনাতলী এলাকায় সদ্য পাহাড় কেটে মাটি সাবাড়ের চিত্র। এসব টিলা সাবাড় করা মাটি পাশের নিচু জমি ভরাট, কোথাও কোথাও উন্নয়নমূলক কাজে বালুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও সরকারি উন্নয়নকাজ-সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী তা অস্বীকার করেছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে মহামুনির অদূরে লেমুয়া ঘনবসতিপূর্ণ একটি পাহাড় কাটার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে জায়গার মালিক হেফাজত ইসলাম বলেন, ‘ঘর করার প্রয়োজনে আমাকে ইতিপূর্বে মাটি কাটতে গিয়ে প্রশাসন কর্তৃক জরিমানা গুনতে হয়েছে। মাটি কেটে ঘর করার প্রয়োজন হওয়ায় চুপিসারে গত পরশু রাতে (বুধবার) জনৈক এক্সকাভেটর মালিককে ৬ হাজার টাকা দিয়ে মাটি কাটিয়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এয়াতলংপাড়ার জনৈক ব্যক্তি বলেন, ‘মাস দেড়েক ধরে প্রায় রাতেই বালুমাটি মিশ্রিত একটি পাহাড়ে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে! সাবাড় করা টিলার মাটি লাল বর্ণ এবং মাটিতে প্রচুর বালু! ফলে এসব মাটি নির্মাণকাজেও ব্যবহারযোগ্য! তাই রাত হলেই এক্সকাভেটরসহ ছোট ট্রাক, ট্রলি এসে অনায়াসে মাটি নিচ্ছে।’
বালুমিশ্রিত পাহাড়ের মাটি উন্নয়নকাজে ব্যবহার বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকছড়ি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোহাব্বত আলী বলেন, ‘পাহাড়ের অধিকাংশ বালু মাটি মিশ্রিত, ফলে উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত বালু কোথা থেকে আনা হয়, সেটি বোঝার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, নির্মাণকাজে কমপক্ষে পয়েন্ট ৫০ এফএম বালু থাকা আবশ্যক। কিন্তু এখানে ব্যবহৃত বালুতে ৩০ শতাংশ মাটির উপস্থিতি পাওয়া যায়। আমরা অবশ্যই বালুর উপস্থিতি বেশি (৫০-৭০ এফএম) থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করি।’
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক বালু ও পাহাড় কাটাসংক্রান্ত তিনটি মামলায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পরিবেশ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক পাহাড় কাটায় একটি মামলায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, ‘পাহাড় হচ্ছে প্রকৃতির পিলার। এটি রক্ষার দায়িত্ব সকলের। সচেতনতার অভাবে মানুষ অল্পস্বল্প প্রয়োজনেও পাহাড়ে আঁচড় বসায়! বিশেষ করে রাতের গভীরে জনমানবহীন এলাকায় যখন মাটিখেকোরা অসদুদ্দেশ্যে পাহাড় কাটে, তখন কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে না। আবার বিশ্বস্ত সূত্র ছাড়া গেলে দুর্বৃত্তরা এক্সকাভেটরের শব্দ বন্ধ করে নীরব থাকায় খুঁজে বের করা যায় না। এরপরও চলতি মাসসহ গত তিন মাসে চারটি অভিযানে পরিবেশ আইনে মামলাসহ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তথ্য দিয়ে সবাই সহযোগিতা করলে এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এলে প্রকৃতির পিলার রক্ষা সহজ হবে। অন্যথায় কঠিন।’

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুম্পা ঘোষ। অভিযানকালে মাদক সেবনের অপরাধে এমদাদকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়
১৯ মিনিট আগে
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর শাহপাড়ার মণ্ডলবাড়ির বাসিন্দা মো. জাকারিয়া ইসলাম মাহী ও মো. মোয়াজ বিল্লাহ শাহী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এমন সাফল্য অর্জন করেছে। তারা গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের বাবা চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
২১ মিনিট আগে
জরুরি বিভাগে ভর্তি এক সংকটাপন্ন রোগী, বাঁচিয়ে রাখার আকুল চেষ্টা চলছে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে! কোনো লাইফ সেভিং মেডিকেল ইকুইপমেন্ট নয়, রাঙামাটির নানিয়ারচরের নবনির্মিত একটি কালভার্ট টিকে আছে স্থানীয়দের দেওয়া কয়েকটি বাঁশের খুঁটির ওপর ভর করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত এই কালভার্টটি
২৭ মিনিট আগে
ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এতদিন গ্রেপ্তার হননি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী (৫২)। অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর
৩২ মিনিট আগে