Ajker Patrika

ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে খাগড়াছড়ির পোলট্রি শিল্পে বিপর্যয়

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে খাগড়াছড়ির পোলট্রি শিল্পে বিপর্যয়
প্রতীকী ছবি

ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, লো-ভোল্টেজ ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার পোলট্রি শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়েছে। জেনারেটর চালিয়ে খামার টিকিয়ে রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় পোলট্রি শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী সাব-স্টেশন থেকে আসা ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পান। আশির দশকে স্থাপিত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত কিংবা হালকা বাতাসেও লাইনে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, গত সাত দিনে ফিডারভিত্তিক গড়ে দিনে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। ফলে বয়লার, লেয়ার ও হ্যাচারি খামারে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় দুটি হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, থানা, একটি সেনা জোন, দুটি আনসার ব্যাটালিয়ন এবং প্রায় দেড় শতাধিক ছোট-বড় পোলট্রি খামার রয়েছে। ১ জুন থেকে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও তীব্র গরমে শতাধিক খামারে প্রায় ১৫ হাজার মুরগি মারা গেছে বলে খামারিরা দাবি করেছেন।

সততা পোলট্রি, ফিড ও হ্যাচারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ে যেভাবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, শাটডাউন ও লো-ভোল্টেজ হচ্ছে, তা পোলট্রি শিল্পের জন্য মরণফাঁদ। গত এক সপ্তাহে বিদ্যুতের সমস্যায় আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার হাইব্রিড ইনভার্টর নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মুরগি মারা গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’

বোরহান পোলট্রি খামারের মালিক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘পুরো উপজেলায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক সময় মিনিটের মধ্যে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

তিনটহরী বড়ডলু এলাকার ক্ষুদ্র খামারি মো. রবিউল হোসেন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিং হয়। কার্যত দিনে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উৎপাদনমুখী খাতগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে জবাবদিহিতায় আসতে হবে।’

এ বিষয়ে মানিকছড়ি আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী সুমন পাল বলেন, ‘আমি সবেমাত্র কর্মস্থলে এসেছি। অল্প সময়ে যা দেখলাম, জরাজীর্ণ লাইনে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা বজ্রপাতেও ত্রুটি দেখা দেয়। গাছের ডালপালা তারের ওপর পড়ে এবং পুরোনো যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত করতে অনেক সময় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা লেগে যায়। জনবল সংকটও রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ ও ৮ জুন লাইনের গাছপালা অপসারণের জন্য শাটডাউন দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ২ ও ৫ জুন বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হয়েছে। ৩৩ কেভি লাইনের সংস্কার ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সৌরভ দত্ত রনি বলেন, ‘পাহাড়ে সম্ভাবনাময় পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে বিদ্যুৎ সমস্যাই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। দ্রুত সমাধান না হলে এ শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত