Ajker Patrika

চাবি হস্তান্তরের দেড় বছরেও বরাদ্দ হয়নি আশ্রয়ণের ৩৬ ঘর

আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
চাবি হস্তান্তরের দেড় বছরেও বরাদ্দ হয়নি আশ্রয়ণের ৩৬ ঘর
মনিরামপুর পৌরসভার মহাদেবপুর গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৬টি ঘর দেড় বছর ধরে খালি পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মহাদেবপুর গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৬টি ঘর দেড় বছর ধরে খালি পড়ে আছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এসব ঘর মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের উৎপাত ও ভাঙচুরে কয়েকটি ঘর ইতিমধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পঞ্চম ধাপের শেষ পর্যায়ে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে মনিরামপুরে মোট ৬২টি আশ্রয়ণ ঘর নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে মহাদেবপুরে ৩৬টি, রোহিতা ও গোবিন্দপুরে ৯টি করে ১৮টি এবং শেখপাড়া খানপুর ও চালুয়াহাটির হরিসপুরে চারটি করে ৮টি ঘর রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা।

পিআইও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ সংযোগ ও নলকূপ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। একই দিনে ঘরগুলোর চাবি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি।

মনিরামপুর-ঢাকুরিয়া সড়কের জয়পুর কাছারিবাড়ি মোড় হতে পূর্বদিকে ইটের একটি সলিং রাস্তা নেমে এসেছে। সেই রাস্তা ধরে জয়পুর মান্দারতলা ঈদগাহ হয়ে কাঁচা রাস্তা বয়ে কিছু দূর এগিয়ে দক্ষিণ দিকে তাকালে চোখে পড়ে মহাদেবপুর মৌজায় নির্মিত রঙিন টিনের রং করা সারি সারি ৩৬টি আধা পাকা ঘর। যার উত্তর ও পূর্ব পাশে রয়েছে ফসলের মাঠ।

মনিরামপুর পৌরসভার মহাদেবপুর গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৬টি ঘর দেড় বছর ধরে খালি পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
মনিরামপুর পৌরসভার মহাদেবপুর গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৬টি ঘর দেড় বছর ধরে খালি পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরেজমিন দেখা যায়, মহাদেবপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত পাঁচ সারির ৩৬টি ঘরই খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘরের তালা ভাঙা। অনেক ঘরের বারান্দায় শুকানো হচ্ছে গোবর, কোথাও বাঁধা রয়েছে গবাদিপশু। কয়েকটি ঘরে রাখা হয়েছে খড়কুটা ও অন্যান্য জ্বালানি সামগ্রী। একটি ঘরে আগুন দেওয়ার চিহ্নও দেখা গেছে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেড় বছর আগে ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখনো কেউ বসবাস শুরু করেনি। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা থাকে।’

এদিকে শনিবার দুপুরে মহাদেবপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দাঁড়িয়ে এসি ল্যান্ড মাহির দায়ান আমিনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তখন তিনি মহাদেবপুরে আশ্রয়ণের ঘর বিতরণ না হওয়ার কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে এই প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে তিনি মহাদেবপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্প সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন।

জয়পুর গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার মা বেছুরেন্নেছা মহাদেবপুর মৌজায় দেড় বিঘা জমি পেয়েছিলেন। সেই জমি পরে খাস হয়ে গেলে তাতে ৩২টি ঘর করেছে সরকার। আমরা পাঁচ ভাইবোন। জমিজমা না থাকায় মামার ভিটায় থাকি। জমি নেওয়ার সময় ইউএনও বলেছিল, আমাদের পাঁচ ভাইবোনকে পাঁচটি ঘর দেবে। ঘরের কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। কাগজপত্র না দেওয়ায় আমরা ঘরে উঠতে পারিনি। সব ঘর খালি পড়ে আছে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, আশ্রয়ণের যেসব ঘর হস্তান্তর করা হয়নি, সেগুলোর হস্তান্তর কাজ ধাপে ধাপে চলমান আছে। চলতি সপ্তাহে ১১টি ঘর হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত