Ajker Patrika

চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ২২: ৫৯
চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, চিকিৎসক গ্রেপ্তার
রাফসান জানি। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর আপন ছোট বোনকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক (মেডিকেল কর্মকর্তা) রাফসান জানিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের মুড়ুলি মোড়ে অবস্থিত রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশন চত্বর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৭ মার্চ ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী (১৭) নিজে বাদী হয়ে রাফসান জানির বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করে। এরপরই গ্রেপ্তার এড়াতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে আত্মগোপনে চলে যান রাফসান জানি।

রাফসান জানি যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, ‘রাফসান জানি ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এরপর মার্চের মাঝামাঝি থেকে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

মনিরামপুর থানায় হওয়া মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী (কলেজছাত্রী) লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে সে রংপুরে একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কয়েক বছর আগে বিবাদী রাফসান জানির সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। ২০২০ সালের শেষের দিকে বোন অন্তঃসত্ত্বা হলে বাদীকে বোনের দেখভালের জন্য রাফসান তাঁকে যশোরে তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাফসান বাসায় বাদীকে পড়াতেন।

আরজিতে বাদী অভিযোগ করে, বাসায় পড়ানোর ছলে বিবাদী তাঁর খাতায় আপত্তিকর কথাবার্তা লিখতেন। তাকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন। সে তার বোনকে বিষয়টি একাধিকবার বলার পরও বোন তাতে কান দেননি। নিজের সংসার বাঁচাতে তিনি চুপ থাকতেন। সন্তান কিছুটা বড় হলে বোন চাকরিতে যোগ দেন। সে সময় তাঁর অনুপস্থিতিতে বোনের স্বামী তাকে ধর্ষণ করেন।

কলেজছাত্রী বলে, ২০২৫ সালের দিকে রাফসান মনিরামপুরে একটি ক্লিনিকে চাকরি নেন। তখন তিনি সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেই বাসায় রাখেন। এ সময়ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং সেসব ছবি ও ভিডিও করে মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাফসান মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান চিকিৎসক রাফসান জানিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ বেলা ১০টা ২০ মিনিটের দিকে যশোর সদরের রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশন থেকে চিকিৎসক রাফসান জানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর দুপুরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত