Ajker Patrika

কেশবপুরে মাছশিকারিদের বেড়া ও জাল অপসারণ, রক্ষা পেল ৬০০ বিঘার ধানখেত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১২
কেশবপুরে মাছশিকারিদের বেড়া ও জাল অপসারণ, রক্ষা পেল ৬০০ বিঘার ধানখেত
কেশবপুরে মাছ শিকারিদের দেওয়া অবৈধ বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের কেশবপুরে মাছশিকারিদের দেওয়া অবৈধ বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর ফলে জলাবদ্ধতা দূর হয়ে পদ্মবিলসহ কয়েকটি বিলে তলিয়ে যাওয়া ৬০০ বিঘা জমির আমন ধান রক্ষা পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল কোমরপুরের কাটা খাল নামের স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব বাধা অপসারণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ও গতকাল সোমবারের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার সাতবাড়িয়া, কড়িয়াখালী, বেগমপুর, জাহানপুর বিলসহ পদ্মবিলের প্রায় ৬০০ বিঘা আমন ধান পানিতে তলিয়ে যায়। বিলের পানি মূলত পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যবর্তী কোমরপুরের কাটা খাল দিয়ে হরিহর নদে গিয়ে পড়ে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন মাছশিকারি ওই খালের সংযোগস্থলে বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে পানিপ্রবাহের পথ আটকে দেন। ফলে পানি বের হতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানখেত ডুবে যায়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় আজ দুপুরে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে কোমরপুরের কাটা খালে অভিযান চালান। সেখানে বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদের পর দ্রুত পানি নামতে শুরু করে এবং তলিয়ে যাওয়া খেত জেগে ওঠে। অভিযানকালে পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের আটটি পয়েন্ট থেকে প্রায় চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

নতুন মূলগ্রামের কৃষক জাকারিয়া বলেন, পদ্মবিলে তাঁর পাঁচ বিঘা জমির আমন ধান তলিয়ে যায়। পানি বের হতে না পারায় বিলের সব জমির ধান ডুবে যায়।

পার্শ্ববর্তী জাহানপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তাঁরও চার বিঘা জমির ধান তলিয়ে যায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাঁশের বেড়া ও জাল উচ্ছেদ হওয়ায় কৃষকের ডুবে যাওয়া ধান রক্ষা হলো।

এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শুভংকর মোড়ল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে খালে বাঁশের বেড়া ও জাল সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় আমন ধানের আর কোনো ক্ষতি হবে না।

জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পরই ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় অবৈধ বেড়া ও জাল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ৬০০ বিঘা আমন ধান রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর বিনষ্ট করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত