
সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই এ বিষয়ে গণভোট হয়ে গেছে। এখন সরকার নতুন একটা গণভোট করে আগের গণভোটের রায়কে বাতিল করার চেষ্টা করছে।
যদিও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত রোববার কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন ভোট হবে সাংবিধানিক গণভোট। সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ কিছু জায়গায় সংসদ যদি কোনো পরিবর্তন আনে, তাহলে তা গণভোটে দিতে হয়। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান গতকাল সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জনগণ যে জনরায় দিয়েছে, এটাকে উনারা কোনোভাবেই আমলে নিতে চাচ্ছেন না। উনারা নতুন একটা গণভোট করে আগের গণভোটের রায়কে বাতিল করার চেষ্টা করছেন। এটা আসলে গণতন্ত্রের মুখে চপেটাঘাত এবং পেছনে ছুরিকাঘাত।’
তবে পুনরায় গণভোট নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির বিষয়ে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিরোধী দল কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিন্তু তারা অংশ না নিলে আমাদের একতরফাভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা গণভোট দিতে পারি।’
তাহলে আগের গণভোটের রায়ের কি কোনো মূল্য নেই—এ প্রশ্নে জয়নুল আবেদীন বলেন, গণভোটের সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন একত্র করলে সেটা আর গণভোট থাকে না। গণভোট একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে হয়।
গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ কর্মী ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে গত রোববার সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিষয়টি ছিল। আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেটা উঠিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর উচ্চ আদালত তা পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন।
এটা সংবিধানে আসবে। এ জন্য এখন সাংবিধানিক গণভোট করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আইন মন্ত্রণালয় আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদে বিল উত্থাপন করতে পারে। সংসদ সংবিধান সংশোধন বিল অনুমোদন করার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে আবার গণভোট হবে।
তবে বিদ্যমান আইনে আবারও গণভোট হওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আদালত যদি কোনো কিছু পুনর্বহাল করে দেন, এটার জন্য আবার সংসদে আইন পাস করতে হয় না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়। এখানেও পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় একইভাবে দেওয়া হয়েছে যে গণভোটের ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল হয়েছে। কাজেই অষ্টম সংশোধনী মামলার দৃষ্টান্ত অনুযায়ী আর কোনো সংসদের আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন নেই।
আরেক বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকও একই রকম মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, শুধু আদালতের রায় সংবিধানের অংশ হয় না, সংবিধান সংশোধন করে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। কিন্তু তিনি মনে করেন, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে গণভোটের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
তবে ব্যারিস্টার ইমরান এ কথাও জানান, এখন যদি সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ বা ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সরকার যদি গণভোট দিতে চায়, তাহলে তারা সেটা করতে পারে। কিন্তু ১৪২ অনুচ্ছেদ নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় বের হয়নি। এ রায় প্রকাশের পর তা পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রায় এক বছর ধরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর সনদে স্বাক্ষর করে দলগুলো। এর ভিত্তিতে ওই বছরের ১২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। যেখানে বলা হয়েছিল, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে চলতি সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে। এমপিরা একই সঙ্গে পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংবিধানের কিছু মৌলিক সংস্কার করবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়। নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে বিএনপি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আদেশকে অসাংবিধানিক দাবি করে সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। তারা সংবিধান সংশোধনের কথা বলে আসছে। এ জন্য গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর এমপিরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। এর পর থেকে তাঁরা গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবি আদায়ে তাঁরা রাজপথে আন্দোলনও করছেন।
সূত্র জানায়, রোববার সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট সম্পর্কে জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণভোটের অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত হয়নি। তবে তাঁরা গণভোটকে ধারণ করেন, জুলাই সনদকে ধারণ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনি পরামর্শক তানিম হোসেন শাওন বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথাটা বলেছেন। আমরা যে গণভোট ইতিমধ্যে করেছি, সেই গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য সবচেয়ে আইনসিদ্ধ হতো এবং সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধ হতো যদি ওই গণভোটের আলোকে উনারা এই সংবিধানটা সংস্কার করতেন।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রশ্নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পলায়ন থেকে শুরু করে গত দুই বছরে বাংলাদেশে যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, আগের গণভোটকে অস্বীকার করার মাধ্যমে সরকার সেই পুরো কাঠামোকেই অস্বীকার করছে। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে এর ফলে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বলছে, সরকার এতকাল বলে আসছে, জুলাই সনদ তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সে ক্ষেত্রে জনগণ তো রায় দিয়েছে। তাহলে আবার নতুন করে গণভোটের দরকার কেন? সরকার কি তাহলে জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে জনগণ রায় দিয়েছে, সেগুলো থেকে সরে আসবে? বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, সরকার জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করে নিজেদের মতো সংবিধান সংশোধন বিল আনতে পারে। এরপর নতুন গণভোটের মাধ্যমে পরিবর্তিত বিষয়গুলো বৈধ করার চেষ্টা করবে। জনগণ যেসব বিষয়ে ইতিমধ্যে রায় দিয়েছে, সেগুলো ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা মানবে না বিরোধীরা।
এ বিষয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অভ্যুত্থান, ঐকমত্য, কমিশন, জনগণের ম্যান্ডেট ও গণভোট—এসব বাদ দিয়ে ১২ তারিখের পর থেকে ইতিহাস শুরু করছেন। উনি ধরে নিয়েছেন, ১৯৭২-এর সংবিধানের অধীনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সংবিধান সংশোধন করবেন এবং আদালতের রায়ের আলোকে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট উনার ১২ তারিখে শপথ নেওয়ার পর থেকে তৈরি হয়নি—এটা উনি ভুলে গেছেন। এটা পুরো বিষয়টাকে নষ্ট করে দেওয়ার চক্রান্ত, পুরো অভ্যুত্থানটাকেই নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা।’
এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও দলটির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াকে আমরা প্রহসনমূলক ও একদলীয় মনে করি। গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করছে সরকার।’
যদিও সরকারপন্থী দু-একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের সুরেই কথা বলছেন। গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘যেকোনো মৌলিক সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাই এ ক্ষেত্রে গণভোট দরকার। আমরা আগেও বলেছি, ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে গণভোটের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু যেহেতু তা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়নি, সেহেতু গণভোটের প্রয়োজন রয়েছে।’

কৃষির বেশ কয়েকটি প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) বদলে তোড়জোড় শুরু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দুটি সংস্থা। পিডি বদলের তালিকায় রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ১১টি প্রকল্প ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের দুটি প্রকল্প। একসঙ্গে এত প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী...
৪ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের বিমান বহর সম্প্রসারণ করতে হবে। এখানে কোনো গোপন অ্যাজেন্ডা নেই। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’
৪ ঘণ্টা আগে
হত্যা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পরও প্রায় আট বছর কারাগারে রাখায় খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সে সঙ্গে যাঁদের অবহেলায় দীর্ঘ আট বছর অতিরিক্ত কারাবাস করতে হয়েছে, তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না...
৫ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান...
৫ ঘণ্টা আগে