
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। যশোর শহরের গুরুদাসবাবু লেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব চলে। ওই তাণ্ডবে বাড়ি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী ও তাঁর তিন ছেলে—সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র সৈয়দ নুরুল ইসলাম বকুল, সৈয়দ শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজিজুল হককে ধরে নিয়ে যায় পাক সেনারা। পরে তাঁদের যশোর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
শুধু সৈয়দ আমীর আলী ও তাঁর তিন সন্তানই নন, একই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হন যশোরের অর্ধশতাধিক রাজনীতিক, শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবী ও ধর্মীয় নেতা। ২০২৪ সালে শহীদদের কয়েকজনকে শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাকিরা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। শহীদদের স্মরণে নেই কোনো স্মৃতিস্মারকও। শহীদদের স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরছেন স্বজনেরা।
এদিকে যশোর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে শংকরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেলে শহরের টাউন হল ময়দানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, সারা দেশের মতো যশোরেও ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। এপ্রিলের শুরুতে গোটা বাঙালি জাতি পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে মাঠে নামে। এই প্রস্তুতি দমিয়ে দিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরেরা নৃশংস হয়ে ওঠে। যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত পাক সেনারা শহরের বিভিন্ন স্থানে বর্বর হামলা চালাতে থাকে। যশোরে তাদের সবচেয়ে নৃশংস হামলাগুলোর অনেকগুলোই ঘটে ৪ এপ্রিল।
সেদিন যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাক সেনারা শহরের বিভিন্ন বাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালায়। প্রকাশ্যে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক বাঙালিকে হত্যা করা হয়। এদিন সবচেয়ে বড় ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।
সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী রেলস্টেশন এলাকার শেখ আব্দুর রহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল ভোরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ফজরের নামাজ শেষে কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিহারিদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হামলা চালায়। মাদ্রাসার বড় হুজুর আবুল হাসান যশোরী তাদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে অবাঙালিরা পাক সেনাদের জানায়, এখানে থাকা সবাই ইপিআর সদস্য এবং পাকিস্তানের শত্রু। এরপরই পাক সেনারা নির্বিচারে গুলি চালায়।
মাদ্রাসা প্রাচীরের ওপর থেকে এই দৃশ্য দেখে পালিয়ে যান আব্দুর রহিম। পরে দুপুরে তিনি ও তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে দেখেন, চারদিকে রক্তে ভেসে আছে এলাকা—শুধু লাশ আর লাশ। সেখানে ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় মিললেও বাকি সাতজনের পরিচয় আজও জানা যায়নি।
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আত্মরক্ষার জন্য খোঁড়া একটি গর্তে রহিম ও জাহাঙ্গীর মরদেহগুলো একের পর এক সাজিয়ে মাটিচাপা দেন। সেদিনের ওই নৃশংস ঘটনাটি বর্তমানে ‘মাদ্রাসা ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া ১৬ জন হলেন—একই পরিবারের তাহের উদ্দিন, এ বি এম আব্দুল হামিদ ও এ বি এম কামরুজ্জামান; কাজী আব্দুল গণি ও তাঁর ছেলে কাজী কামরুজ্জামান; তৎকালীন খুলনা কমিশনার অফিসের কর্মচারী দীন মোহাম্মদ; সম্মিলনী স্কুলের শিক্ষক আইয়ুব হোসেন; কাজী আব্দুল কালাম আজাদ; রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান (কাঠি হুজুর); যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রউফ; শহর আলীর ছেলে আবু কালাম এবং মাদ্রাসার ছাত্র আতিয়ার রহমান, নোয়াব আলী, লিয়াকত আলী, মাস্টার আব্দুর রফিক ও আক্তার হোসেন।
এঁদের মধ্যে ২০২৪ সালে রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রউফ এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
এদিন পাক সেনারা শহরের ক্যাথলিক গির্জাতেও হামলা চালায়। সেখানে ইতালীয় ফাদার মারলো ভারনেসিসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, গণহত্যার শিকার শহীদদের স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি যশোর গণহত্যা দিবসের কোনো স্মৃতিস্তম্ভও নেই। তিনি শহীদদের কবর সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা
১ ঘণ্টা আগে
পূর্ব সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও চলতি বছর আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বনদস্যুদের আতঙ্কে অনেক মৌয়াল সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই ফিরে আসছেন।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই সড়কে এখন বইছে বসন্তের বাতাস। বাস্তবিক অর্থেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে এই মহাসড়ক। সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের শেষ প্রান্ত মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে ফুটেছে রাধাচূড়া।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর উত্তরায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চালিয়েও কোনো কাজে আসেনি। উচ্ছেদ অভিযানের আগে যে অবস্থা ছিল, এখন আবার সেই একই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে