Ajker Patrika

‘চামড়ার দাম একেবারেই কম, ন্যায্য দাম না পেলে মাটিতে পুঁতে রাখব’

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
‘চামড়ার দাম একেবারেই কম, ন্যায্য দাম না পেলে মাটিতে পুঁতে রাখব’
ছাগলের চামড়ার দাম উঠেছে ২০-৩০ টাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি শুরু হলেও দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, ব্যবসায়ী না এলে কিংবা ন্যায্য দাম না পেলে চামড়া মাটিতে পুঁতে রাখবেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গরুর চামড়া আকারভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে আবার চামড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দিয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। পরে মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়েছিল। এবারও দাম খুব কম। ছাগলের চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করছি ব্যবসায়ী আসবে কি না। বিক্রি না হলে মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে।’

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ঈদের নামাজের পর থেকেই কোরবানি শুরু হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী এসে ছাগলের চামড়ার দাম ২০ টাকা বলেছেন। সরকারের উচিত চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা। গত বছরও অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়েছেন।’

চামড়া ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী বলেন, ‘আমরাও ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কিনি। বাজারে দাম না পেলে লোকসান হয়। ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কিনছি, তবে কাটা বা ক্ষত থাকলে ২০ টাকাও দিচ্ছি। গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনছি। লবণের দামও বেশি। তাই আমরা কিনে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি।’

উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের নামাজের পর কোরবানি শেষ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে আসেননি। অনেকেই চামড়া সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ব্যবসায়ী এলে যে দাম পাওয়া যাবে, সেভাবেই বিক্রি করতে হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হলে আগের বছরের মতো এবারও অনেক চামড়া নষ্ট হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত