Ajker Patrika

নির্বাচন অফিসের যোগসাজশে সম্ভাব্য ইউপি প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা বদলে দেওয়ার অভিযোগ

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি  
নির্বাচন অফিসের যোগসাজশে সম্ভাব্য ইউপি প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা বদলে দেওয়ার অভিযোগ
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে জালিয়াতির মাধ্যমে দুই ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সহোদর।

ভুক্তভোগী দুই ভাই হলেন—চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের নূরনবী শেখ ও মিলন মিয়া। নূরনবী শেখ আগামী ইউপি নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী নূরনবী ও তাঁর বড় ভাই মিলন মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী নূরনবী ও তাঁর বড় ভাই মিলন মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

নূরনবী ও মিলনের অভিযোগ, স্থানীয় একটি চক্র তাঁদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর সহায়তা নিয়েছে। এ কাজে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নূরনবী শেখ ও মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। আবেদন দুটির প্রক্রিয়াকরণ করেন অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির ও কার্য সহকারী মনিরুজ্জামান।

২৫ আগস্ট আবেদনগুলো ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ৩০ আগস্ট সেগুলো অনুমোদনের পর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নূরনবী শেখের ভোটার এলাকা দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা এলাকায় এবং মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নুরনবী শেখ চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগও শুরু করেছেন।

নুরনবী শেখ বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই কান্দারচর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমি ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, সে জন্য স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির ও কার্য সহকারী মনিরুজ্জামানের সহায়তায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দ্রুত ভোটার তথ্য সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।’

মিলন মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাই নুরনবীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ভোটার তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘ভোটার এলাকা পরিবর্তনের যাবতীয় কাজ মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সম্পন্ন করেছে। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছি।’

অভিযুক্ত অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির ও কার্য সহকারী মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তাঁদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের বাসিন্দা দুই ব্যক্তির ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে জানতে পারি, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ভোটার এলাকা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত