Ajker Patrika

মনিরামপুর হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের রোগী, নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা

আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
মনিরামপুর হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের রোগী, নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা
শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বুধবার দুপুরে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৩ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২২ শিশু।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ওয়ার্ডে পাঁচজন এবং মহিলা ওয়ার্ডে চারজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অনুপ বসু বলেন, ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের বেশির ভাগই পৌরসভার বিজয়রামপুর ও গাংড়া এলাকার বাসিন্দা। পৌর এলাকার ময়লার ড্রেনগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এ অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ঢাকা ও খুলনা থেকে মনিরামপুরে ফেরার পর অনেকের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের মশারির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পর্যাপ্ত পরীক্ষা নেই হাসপাতালে

জ্বর নিয়ে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের ডেঙ্গু নির্ণয়ের সব পরীক্ষা হাসপাতালে করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া কয়েকটি পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে রোগীদের। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ৪৩ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন মামুন হোসেন। তাঁর মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ছেলের জ্বর। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আসছি। প্রথম দিন ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। একটি স্যালাইন ৮০০ টাকা। চারটি পরীক্ষার মধ্যে দুটি হাসপাতালে ১০০ টাকা খরচে করিয়েছি। বাকি দুটি বাইরে থেকে করিয়ে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছি। বুধবার সকালে একটি কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষা বাইরে থেকে করিয়েছি। ৪০০ টাকা নিয়েছে। সঙ্গে ১০০ টাকার ওষুধ কিনেছি।’

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আনিছুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য সিবিসি উইথ প্লাটিলেট পরীক্ষা জরুরি। কিন্তু এ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট (বিকারক) হাসপাতালে সরবরাহ নেই। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা সেল কাউন্টারে করতে হয়। আমাদের যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু রিএজেন্ট নেই। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আমরা হাসপাতাল প্রধানকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি ৩০ হাজার টাকার রিএজেন্টের অর্ডার করেছেন। আগামী রোববার থেকে হাসপাতালে প্লাটিলেট পরীক্ষা শুরু করা যাবে।’

আনিছুজ্জামান আরও বলেন, ‘যে মেডিসিন আনা হচ্ছে, তা ১০ দিন চলবে। এরপর আবার কিনতে হবে। আমাদের ল্যাবে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি ও মেডিসিন সরবরাহ থাকলে রোগীদের হাসপাতালে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।’

মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর চাপ বেশি। ছবি: আজকের পত্রিকা
মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর চাপ বেশি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিছু পরীক্ষা বাইরেই করতে হচ্ছে

ভর্তি রোগী মামুন হোসেনের বিষয়ে আরএমও অনুপ বসু বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি রোগীর শরীরে টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া বা রিকেটসিয়াল রোগের জীবাণু আছে কি না, তা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকেরা অনেক সময় ট্রিপল অ্যান্টিজেন টেস্ট দেন। এ পরীক্ষা হাসপাতালে নেই। তাই বাইরে থেকে করাতে হয়। মামুনের ক্ষেত্রেও এ পরীক্ষা বাইরে থেকে করানো হয়েছে।

৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ

এদিকে গত এক মাস ধরে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত সপ্তাহের বুধবার এক দিনেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৫ জন। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মশারি টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মশারি টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আরএমও অনুপ বসু বলেন, ‘ভর্তি রোগীর চাপে বারান্দা থেকে সিঁড়ি পর্যন্ত রোগী ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে বুধবার একসঙ্গে ২৮ রোগীকে ছাড়পত্র দিয়েছি। হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫০ শয্যার ওষুধ দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। রোগী ভর্তি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি স্যালাইন আমরা সরবরাহ করছি। পরের স্যালাইনগুলো রোগীদের কিনতে হচ্ছে। আমাদের স্যালাইনের সংকট রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে নরমাল স্যালাইনের ৫ হাজার চাহিদা দেওয়া হলেও পেয়েছি মাত্র ৫০০টি। হাসপাতালের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার হাত একান্ত কাম্য।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত