Ajker Patrika

মেয়াদ শেষের দুই মাস পরও শুরু হয়নি চার প্রকল্পের কাজ

এম কে দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর)
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩৯
মেয়াদ শেষের দুই মাস পরও শুরু হয়নি চার প্রকল্পের কাজ
ইসলামপুরের চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে মুনুর বাড়ির পাশে রাস্তায় ইউড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শুরু করা হয়নি। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গৃহীত চারটি প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস পরও কাজ শুরু হয়নি। বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিনেও কাজ শুরু না হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। এমনকি কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকায় কোথায় ও কবে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা জানেন না। কবে নাগাদ প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হবে, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় এর দায় পিআইও এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অনুকূলে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কাজ শুরুর জন্য বরাদ্দের প্রথম কিস্তির অর্থও প্রকল্পের সভাপতিদের দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর কাজ তদারকি করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন। এরই মধ্যে তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। গত ৩০ জুন প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাবিটা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিরাজাবাদ ডিহিদার বাড়ি কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৭ টাকা। একই কবরস্থানের পশ্চিম পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় থেকে আরও ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪০১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প দুটির কোনো কাজই এখনো শুরু হয়নি।

পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, ‘অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে প্রকল্পস্থানে ইট নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।’

অন্যদিকে, গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের জন্য কাবিটা কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের কাজও শুরু হয়নি।

প্রকল্পের সভাপতি ও গাইবান্ধা ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, ‘প্রকল্পের প্রথম কিস্তির এক লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। কাজও শুরু করেছিলাম। কিন্তু কাজের হিসাব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। এখন কাজ শুরু করা হবে।’

চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা এলাকায় আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে মুনুর বাড়ির পাশে সড়কে ইউড্রেন নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পের কাজও এখনো শুরু হয়নি।

চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ‘দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করব।’

ইসলামপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জের পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন বলেন, ‘নাপিতেরচর ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না করায় প্রকল্পের টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পের কাজ শুরু না করার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব।’

বর্তমান ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, ‘এ উপজেলায় আমার যোগদানের আগেই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাঁরা তদারকিতে ছিলেন, বিষয়টি তাঁদেরই খতিয়ে দেখার দায়িত্ব।’

এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত