Ajker Patrika

নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, বৃষ্টিতেই পানিবন্দী ইসলামপুরবাসী, চরম দুর্ভোগ

এম কে দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর)
নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, বৃষ্টিতেই পানিবন্দী ইসলামপুরবাসী, চরম দুর্ভোগ
ইসলামপুরে সরকারি বাসভবন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এবং গতকালের ভারী বর্ষণে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি জমে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। নাগরিক সেবার মান অত্যন্ত নিম্ন। ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং ড্রেনগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, ইসলামপুর প্রেসক্লাব ভবন এবং আশপাশের এলাকায় হাঁটুপানি জমে রয়েছে। পৌরসভার পূর্বাংশে প্রবেশপথ বঙ্গবন্ধু মোড় এলাকায় প্রায় ৪০০ ফুটজুড়ে বৃষ্টির পানি জমে ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর দরিয়াবাদ এলাকায় হাসপাতালসংলগ্ন জামে মসজিদ থেকে সুন্দর আলী বাড়ি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বাড়িঘরে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে হাঁস সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথ, সরকারি কোয়ার্টার এলাকা, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনের সড়ক ও প্রাঙ্গণ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সড়ক, পুরাতন মার্কাস মসজিদ-বটতলা সড়ক, থানা জামে মসজিদের পূর্বপাশ, মধ্যবাজার, দেনুয়ার মোড়, ধর্মকুড়া এবং অডিটরিয়ামসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

অডিটরিয়াম এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তালহা বিশ্বাস বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও পৌরবাসী মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’

দরিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা সুমন খন্দকার বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো উন্মুক্ত ও অপরিষ্কার থাকায় আবর্জনায় ভরে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি ঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা পারভীন আক্তার বলেন, ‘দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।’

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবির আহমেদ বিপুল মাস্টার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানির কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়ছে।’

পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার পানি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘ড্রেনগুলো পরিষ্কারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত