Ajker Patrika

এসএসসিতে যমজ দুই ভাইয়ের চমক, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি  
এসএসসিতে যমজ দুই ভাইয়ের চমক, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন
মো. জাকারিয়া ইসলাম মাহী ও মো. মোয়াজ বিল্লাহ শাহী। ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে পথচলা, একসঙ্গে পড়াশোনা, একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও চমক দেখিয়েছে যমজ দুই ভাই। দুজনই অর্জন করেছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিজ উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে তারা। যমজ দুই ভাইয়ের এমন সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। ভবিষ্যতে দুজনেরই স্বপ্ন প্রকৌশলী হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর শাহপাড়ার মণ্ডলবাড়ির বাসিন্দা মো. জাকারিয়া ইসলাম মাহী ও মো. মোয়াজ বিল্লাহ শাহী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এমন সাফল্য অর্জন করেছে। তারা গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের বাবা চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান পনিক এবং মা গৃহিণী শারমিন আক্তার মিতু।

প্রকাশিত ফলাফলে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে মাহী পেয়েছে ১ হাজার ১৯০ নম্বর এবং শাহী পেয়েছে ১ হাজার ১৮৮ নম্বর। এ উপজেলায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের প্রাপ্ত নম্বর সর্বোচ্চ। ফলে মাহী মেধা তালিকায় প্রথম এবং শাহী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

এলাকাবাসী জানান, ছোটবেলা থেকেই মাহী ও শাহী পড়াশোনায় মনোযোগী। পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তাদের আগ্রহ ছিল। বাড়ির পাশের একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে দুই ভাই। ভালো ফলাফলের জন্য মা-বাবা সব সময় তাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

দুই ভাইয়ের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে সব সময়ই ছিল সুস্থ প্রতিযোগিতা। একজন পড়াশোনায় মনোযোগ দিলে অন্যজনও উৎসাহিত হতো। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তারা বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এবারের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এসেছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে মো. জাকারিয়া ইসলাম মাহী বলেন, ‘ফলাফলে আমরা খুব আনন্দিত। মা-বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

মো. মোয়াজ বিল্লাহ শাহী বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মা-বাবা ও শিক্ষকেরা। আমরা দুজনই ভালোভাবে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।’

তাদের মা শারমিন আক্তার মিতু বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাইস্কুলের প্রতিটি শ্রেণিতে দুই ছেলে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় ছিল। এবার এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের ফলাফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি। ওদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

বাবা বজলুর রহমান পনিক বলেন, ‘ছেলেদের সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া। তাদের স্বপ্ন পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ছেলেরা পড়ালেখা করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করুক—এটাই আমাদের কাম্য।’

গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। যমজ দুই শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশা করি।’

উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি এ উপজেলায় উত্তীর্ণদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যমজ দুই ভাই মো. জাকারিয়া ইসলাম মাহী ও মো. মোয়াজ বিল্লাহ শাহী।’

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুরে ৫০টি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৫৫৮ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৮০১ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৫ জন।

এ ছাড়া ৩৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮৯৩ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬৭ জন। ১২টি উচ্চবিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে ৪১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৫১ জন। একটি দাখিল মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখা থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে চারজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত